মাটিতে জীবনের গল্প: ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার মৃৎশিল্প
পালবাড়ি বা কুমার বাড়ি বলতে আমরা সাধারণত বুঝে থাকি যে বাড়িতে মাটির কাজ হয়। মানে এই বাড়ির লোকজন মাটি দিয়ে নানারকম জিনিস বানিয়ে থাকেন। পালবাড়িতে গেলে আমরা দেখতে পাই- বাড়ির মহিলারা পাতিল বানাচ্ছেন, পুরুষেরা চাক ঘুরাচ্ছেন, মাটি ছানা হচ্ছে বা পোন সাজানো হয়েছে নানারকম মাটির জিনিস পোড়ানোর জন্য। তবে বৈশাখ মাসে এই চিত্র দেখা যায় না। কারণ এই একটা মাস তারা কাজ করেন না। এই সময়টাকে বলা হয় পাল্লী।
এক সময় নবাবগঞ্জে পালদের গ্রামগুলোতে প্রতিটি ঘরে মাটির কাজ হতো। বছর জুড়ে ব্যস্ততা লেগে থাকতো পালবাড়িতে। বাড়ির সবাই মিলে রাতদিন কাজ করতো। গৃহস্থালি কাজে মৃৎশিল্পের চাহিদা ছিল প্রচুর। মৃৎশিল্পের সেই সোনালী অতীত লোকগানেও আমরা খুঁজে পাই-
মাটি থাকে মাঠে পরে
কুদালে কাটিয়ে তারে
কুম্ভকারে নিয়া তারে
কতই করে রংবেরং।
জল ঢালিয়া ছানা করে
আছাড়ের পর আছাড় মারে
তবু খাঁটি না হইলি
পারাইয়া করে নরম।
দিয়ে তারে ঘূর্ণিপাকে
ঘুরায় তারে পাকে পাকে
পরিত্রাণ সারা হইলে
রাখে যতনে।
রইদে করে ভাজা ভাজা
পুনের ঘরে নিয়ে সাজা
পাজার উপরে দিয়ে পাজা
অনলে করে দাহ।
প্রেম বাজারে নিয়া তারে
প্রেমের দামে বিক্রি করে।
যাহাতে সন্দেহ করে
পানির মধ্যে জাইতা ধরে
চারা দিয়া টুকা মারে
শক্ত গুরুর ভক্ত হইলে
সেই টুকায় করে- কন কন।
গান সংগ্রাহক: ওয়াসেক বাউল এবং গঙ্গাচরণ পাল, নবাবগঞ্জ উপজেলা, ঢাকা। ( মুসলিম ও হিন্দু দেহতাত্ত্বিক গানে একই গান যার যার নিজস্ব্য ধর্মীয় আঙ্গিকে লোকমুখে শোনা যায়। গানটিতে ধুয়ো হিসেবে হিন্দু রাধারাণী সম্প্রদায় গেয়ে থাকেন- ‘রাধা রাণীর খাস মহলে যাবি যদি মন’ এবং মসুলিম বাউলরা গেয়ে থাকেন- ‘নবীজীর খাস মহলে যাবি যদি মন’)
কিন্তু বর্তমান নবাবগঞ্জের হাতে গোনা কয়েকটি পরিবার এই পেশা ধরে রেখেছে। আধুনিক প্রযুক্তি- বিশেষত এ্যালমোনিয়াম, স্টিল এবং প্লাস্টিকের নিত্য নতুন গৃহস্থালি পণ্যের দখলে এখন বাজার । দীর্ঘস্থায়ী এইসব গৃহস্থালি পণ্য সামগ্রির জন্য মাটির জিনিসের কদর এখন কমে গেছে। এই সঙ্গে প্রচুর কায়িক শ্রম এবং শ্রমের যথাযথ মূল্যায়ন না হওয়া জন্য বর্তমান প্রজন্মের শিক্ষিত ছেলেমেয়েরা পূর্বপুরুষদের এই পেশা থেকে সরে আসছেন।
মৃৎশিল্পে জড়িত পরিবারের সংখ্যা:
নবাবগঞ্জের বেশ কয়েকটি ইউনিয়নে মৃৎশিল্পের কাজ হয়। যন্ত্রাইল ইউনিয়নের হরিষকুল গ্রামে ৭টি পরিবার, গোবিন্দপুর ও ময়মন্দি গ্রামে ৫টি পরিবার, জালালচরে ৭টি পরিবার এবং আজিজপুরে ৪টি পরিবার; বান্দুরা ইউনিয়নের হাসনাবাদ গ্রামে ৭টি পরিবার; গালিমপুর ইউনিয়নের নেয়াদ্দা গ্রামে ৮টি পরিবার; কলাকোপা ইউনিয়নের শুরগঞ্জ গ্রামে- ২টি পরিবার, বক্সনগর ইউনিয়নের বর্ধনপাড়া গ্রামে ১০টি পরিবার; জয়কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের সোনাবাজু ও বেরিবাধ এলাকায় ১৮টি পরিবার; নয়নশ্রী ইউনিয়নের খানেপুর গ্রামে ৬টি পরিবার, কুমারগোল্লা ২টি পরিবার ও নয়নশ্রীগ্রামে ২টি পরিবার; চুড়াইন ইউনিয়নের পূর্ব চুড়াইন গ্রামে ৪টি পরিবার; বাহ্রা ইউনিয়নের চৌকিঘাটা এলাকায় ২টি এবং বলমন্তচরে ২টি পরিবার মৃৎশিল্পের সঙ্গে য্ক্তু আছে।
নবাবগঞ্জে প্রতিমাশিল্পী আছে ১৫ জন। এখানে প্রতিমাশিল্পীদের বলা হয় ‘দেওরি’।
মাটির তৈরি পণ্যসামগ্রি:
দইয়ের পাতিল, রাইঙ, কলস, আতানি,বাসন,ঝাঞ্জরি, ফুলের টপ,পিঠার সাজ, সাধারণ সরা,জল বিরা, খাদা, জালের কাঠি, মাটির ব্যাংক, ভাটি, ফিন্নি চাটি, দুনা, রুটির তাওয়া, পাখির বাসা, মটকা, ছাইদারি প্রভৃতি। এছাড়া অর্ডার হলে অন্যান্য জিনিস তৈরি করা হয়।
হিন্দুদের ধর্মীয় কাজে ব্যবহৃত জিনিসপত্র, যেমন: মা মনসা, দূর্গাদেবী, লক্ষীদেবী, কালি ঠাকুরসহ বিভিন্ন ধরনের দেবদেবীদের মূর্তি তৈরি করা হয়। এছাড়া লক্ষীসরা, প্রদীপ, গাছা, চাটি, নাও-ঘন্টা, বিভিন্ন আকারের ঘট, ধুপতি প্রভৃতি জিনিস তৈরি করা হয়।
এছাড়া শিশুদের জন্য নানারকমের খেলনা তৈরি হয়, যেমনচুলা, হাড়ি, কড়াই, পাতিল, সরা,নানারকম সবিজ, মাছ, পাটাপুতা প্রভৃতি। শিশুরা এগুলো দিয়ে চড়ুইভাতি খেলা করে। এই খেলনাগুলোকে স্থানীয়ভাবে ‘টুপামাছি’ বলা হয়ে থাকে। আরও তৈরি করা হয় মাটির হাতি, ঘোড়া, হরিণ, গরু প্রভৃতি ।
দইয়ের পাতিলেই ভরসা:
দইয়ের পাতিলের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। প্রত্যেক পালবাড়িতে যদি একটি মাত্র জিনিস তৈরি করা হয়, সেটা দইয়ের পাতিল। নবাবগঞ্জ অঞ্চলে এক এবং দুই কেজির পাতিলকে মালসা বলা হয় এবং তিন/চার কেজির পাত্রকে পাতিল বলা হয়। প্রতিটি পালবাড়িতে বছরে গড়ে প্রায় ২০ থেকে ৩০ হাজার বিভিন্্ন সাইজের দইয়ের পাতিল তৈরি করা হয়। দিন দিন নতুন নতুন মিষ্টির দোকান তৈরি হচ্ছে। ফলে দইয়ের পাতিলের চাহিদা তৈরি হচ্ছে। তারপরও পালবাড়ি গুলোর সংখ্যার তুলনায় বাজারে দইয়ের পাতিলের যে চাহিদা, তা এখনও পর্যাপ্ত নয়। শীত মৌসুমে পাতিলের চাহিদা তুলনামূলক কম থাকে। পাইকারী দরে এক কেজি দইয়ের পাতিল ৫ বা ৬ টাকা, দুই কেজি ১০ বা ১২ টাকা, তিন কেজির পাতিল ১৫ টাকা এবং চার কেজির পাতিল ২০ টাকায় বিক্রি হয়। তবে জায়গা ভেদে দামের ভিন্নতাও দেখা যায়।
জালালচরের তৈরি হচ্ছে শুটকি প্রক্রিয়ায় ব্যবহৃত মটকা:
যন্ত্রাইলের জালালচরের তিনটি পরিবার তৈরি করছে মটকা। এটিকে বলা যচ্ছে শুটকির মটকা। নবাবগঞ্জের আরও কোথাও এই মটকা তৈরি হয় না। এই মটকা পৌছে যাচ্ছে বাংলাদেশের দূরদুরান্তে শুটকি প্রক্রিয়াকরণ এলাকায়। নদী পথে ট্রলারে করে চলে যাচ্ছে সিলেট, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লাসহ অন্যান্য জায়গায়। দিনে ৩০/৪০ টি মটকা তৈরি হচ্ছে এই সব বাড়িতে। মটকাগুলো আকারে বড় হওয়ায় এই কাজে অনেক বেশি জায়গা প্রয়োজন হয়ে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, একজন প্রস্তুতকারকের পোন বর্ষার পানিতে ডুবে গেছে। ফলে তিনি কাজ বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছেন। মটকা প্রস্তুতকারীরা জানান, তাদের এই কাজে মূলধনের স্বল্পতা আছে। পর্যাপ্ত মূলধনের ব্যবস্থা হলে তারা আরও ভাল করতে পারবেন।
মৃৎশিল্পের বাজারের অবস্থা :
মৃৎশিল্প মূলত বেপারীবা মহাজন বা পাইকাররা পালবাড়ি থেকে কিনে বিভিন্ন মৃৎশিল্পের দোকান, মেলা, ফেরী করে বিক্রি করে থাকেন। দইয়ের পাতিল কোন কোন জায়গাতে দোকানদাররা বাড়ি থেকে কিনে নিয়ে যায়। তবে কিছু কিছু জিনিসি বাড়ি থেকে সাধারণ ক্রেতারা কিনে নেন। নবাবগঞ্জের শুরগঞ্জ ১টি, সোনাবাজু বেরীবাঁধে ২টি, দাউদপুর বাজারে একটি মৃৎশিল্পের দোকান আছে, এছাড়া স্থানীয় বিভিন্ন বাজারে স্বল্প পরিসরে মৃৎশিল্প বিক্রি হতে দেখা যায়। সাধারণ মানুষ মৃৎশিল্পের জিনিস মেলায় থেকে কিনে থাকে। পৌষমাস ও বৈশাখ মাসে নবাবগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় মেলা চলে। এই সব মেলাতে প্রচুর মাটির জিনিস বিক্রি হয়।
দইয়ের পাতিল আকার ভেদে ৫ থেকে ২০ টাকায় পাইকারী বিক্রি হয়। লক্ষীসরা ৫০ থেকে ৮০ টাকা। রাইঙ ১০০ থেকে ১৫০ টাকা। মটকা ৫০ টাকা। কলস আকার ভেদে ৫০ থেকে ১৫০ টাকা। সরা আকার ভেদে ১০ থেকে ৪০ টাকা। ফুলের টব আকার ভেদে ২০ থেকে ১০০ টাকা। ধুপতি ২৫ টাকা। ভাটি আকার ভেদে ১০০ থেকে ১৫০ টাকা। খাদা আকার ভেদে ৫০ থেকে ১০০ টাকা। আতানি ২৫ টাকা। ঘট ১০ টাকা ১০০ টাকা। পিঠার সাজ ২০ টাকা। মাটির ব্যাংক ৫০ থেকে ২০০ টাকা। প্রদীপ ৫ টাকা। শিশুদের খেলনা ছোট আকারেরগুলো প্রতি পিস ৫ টাকা দরে বিক্রি হয়।
এছাড়া যারা প্রতিমা তৈরি করেন তাদের কাজের উপর ভিত্তি করে মজুরি নির্ভর করে। যেমন ভাল একজন শিল্পী দূর্গা ঠাকুর তৈরিতে ৩০ হাজার থেকে ৪০ হাজার টাকা মজুরি নিয়ে থাকে। আবার যাদের কাজের দক্ষতা কম তারা কিছু কম মজুরিতে কাজ করে থাকে।
নদী ভাঙনের কষ্ট বেরিবাঁধের মৃৎশিল্পীদের:
সোনাবাজু বেরীবাঁধে ৯টি মৃৎশিল্পী পরিবার ব্যস্ত মাটির নানারকম পণ্যসামগ্রি তৈরিতে। ব্যস্ততা দেখেই বোঝা যায়, এখানে প্রচুর কাজ হয় । নবাবগঞ্জের অন্যতম প্রধান মৃৎশিল্প উৎপাদনকারী এলাকা হিসেবে বেরীবাঁধ উল্লেখযোগ্য।
তবে বেরীবাঁধে এই ৯টি পরিবারের ঠিকানা হয়েছে বেশি দিন হয় নি। তাদের আদি নিবাসী কীর্তিনাশা পদ্মায় বিলীন হয়ে গেছে। দোহার উপজেলার অরঙ্গবাদ এলাকায় ছিল তাদের বাড়ি। পুরো অরঙ্গবাদ পদ্মায় বিলীন হয়েছে। এই ৯টি পরিবারের সঙ্গে আরও ২ টি পরিবার মোট ১১টি পরিবার আড়াই পাকি জায়গা কিনে সোনাবাজু বেরীবাঁধ এলাকায় বসবাস শুরু করেন। ২০১২ সাল থেকে তারা এখানে স্থায়ী ভাবে বসবাস করছেন।
এই পেশা কি হারিয়ে যাবে?
পালবাড়িতে গেলে দেখা যায় পোন জ্বালানো হয়েছে। পোন জ্বালানো হলে প্রচুর ধোঁয়া হয়। চাক, ছাঁচ, পারা, বইল্যা, পিতন্যা নিয়ে দক্ষ শিল্প মাটিতে ফুটিয়ে তুলছেন কতশত নকশা/আকৃতি। চাকে কী নিপুনভাবে উঠে আসে কলস, রাইঙ, আর ছাঁচে তৈরি হচ্ছে পাতিল। তবে দিন দিন কঠিন হয়ে পরছে এই পেশা চালিয়ে যাওয়া। মৃৎশিল্পে ব্যবহৃত এঁটেল মাটির দাম অনেক বেড়ে গেছে। আগে এক গাড়ি (২৫ উড়া পরিমাণ) মাটি ছিল ১৫০০ টাকা, বর্তমানে এই মাটি ৫,০০০ টাকা দরে কিনতে হয়। এক গাড়ি মাটিতে ১ কেজির দইয়ের পাতিল ১৫০০টি তৈরি হয়। এছাড়া জ্বালানির দামও বৃদ্ধি পেয়েছে। জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হয় মূলত খেজুরের চলা ও মেহগনি বা অন্য জ্বালানি কাঠ এবং সমলি।
বর্তমানে বাজারে সব ধরনের পণ্যদ্রব্যের দাম বাড়লেও মাটির জিনিসের দাম কিন্তু সেই তুলনায় বৃদ্ধি পায় নি। ফলে বাজারে টিকে থাকে মৃৎশিল্পীদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। পুঁজির অভাবে সীমিত আকারে কাজ করতে হচ্ছে মৃৎশিল্পীদের।
দেশীয় বা আন্তর্জাতিক বাজার তৈরি করতে না পারলে নবাবগঞ্জের এই গুরুত্বপূর্ণ লোক-পেশা ধীরে ধীরে হারিয়ে যাবে। প্রচুর পরিশ্রমের কারণে বর্তমান প্রজন্মের ছেলেমেয়েরা এই পেশায় আসতে চান না। আর্থিক নিরাপত্তার পাশাপাশি সামাজিক মর্যাদা এবং সরকারি স্বীকৃতির মাধ্যমে এই শিল্পীদের যথাযথ মূল্যায়ন করা না হলে অদূর ভবিষ্যতে গ্রামবাংলার এই ঐহিত্য হারিয়ে যেতে পারে।
চাই সহায়তা:
নবাবগঞ্জের অনেক মৃৎশিল্পী দুঃখ করে বলেন, তারা কখনো কোন সহযোগিতা পান না। অন্যান্য পেশায় সরকারি আর্থিক সাহায্য থাকলেও মৃৎশিল্পীদের কোন সহযোগিতা করা হয় না। ঝড়-বৃষ্টিতে পোন ক্ষতিগ্রস্থ হয়। বর্ষার মৌসুমে অনেকের পোন পানিতে ডুবে যায়। অনেক পালবাড়িতে কাজ করার জন্য পর্যাপ্ত জায়গা নেই । ফলে তাদের কাজ করতে সমস্যা হয়। বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টির কারণে কাজে অনেক সমস্যা হয়।
অনেকে দুঃখ করে বলেন- কতো মানুষ এসে ছবি নিয়ে যায়, কতো কিছু লিখে নিয়ে যায়। কিন্তু কেও তো আমাদের কোন রকম সাহায্য কোন দিনও করলো না।
ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার পালবাড়ি গুলো ঘুরে দেখা যায় যে, ৮০ ভাগ বাড়িতে শেষ প্রজন্মের মৃৎশিল্পীরা কাজ করছেন। মানে এই কাজে তাদের সন্তানেরা আগ্রহী নয়। তারা ইতিমধ্যে পেশা পরিবর্তন করে ফেলেছেন। লেখাপড়া শিখে এই কষ্টের কাজ আর করতে চাচ্ছে না নতুন প্রজন্মের ছেলেমেয়েরা। বর্তমানে যারা এই শিল্পে জড়িত আছেন, তাদের বেশিরভাগ মধ্য বয়সী এবং প্রায় বৃদ্ধ। ফলে ঐহিত্যবাহী শিল্পকে বাঁচাতে হলে গ্রহন করতে হবে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা।