ব্যক্তি জীবনে অর্থ ব্যবস্থাপনা

‘ব্যক্তি জীবনে অর্থ ব্যবস্থাপনা’ বিষয়টি সাধারণভাবে তেমন গুরুত্বপূর্ণ মনে হয় না। কিন্তু বিষয়টি বিশ্লেষণ করলে এর গুরুত্ব অনুধাবন করা সম্ভব। আমাদের সমাজে বেশীরভাগ মানুষই মধ্যপ্রাচ্যে চাকুরীজীবি। সেই সুবাদে ৬০ এর দশক থেকে আমাদের আয়ের চাকা ঘুরে গিয়েছিল। কিন্তু জীবনে অর্থ ব্যবস্থাপনা সঠিক না থাকায় সেই অর্থ আমাদের খুব অল্প মানুষের কাজে আসলেও বড় একটা অংশ তা ধরে রাখতে পারেনি। এর জন্য দায়ী ছিল আমাদের অর্থ ব্যবস্থাপনার দূর্বলতা। বর্তমানে আমরা প্রতিনিয়ত অনেক সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছি। কোন কারণে চাকুরী না থাকলেই আমাদের মানুষেরা ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়ছে। করোনা আমাদের দেখিয়েছিল যথেষ্ট পরিমাণে সঞ্চয় না থাকলে জীবনে সমস্যা কি হতে পারে? কিন্তু যে কোন ভাবেই হোক আমরা আবার উদাসীন হয়ে পড়েছি। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে আমাদের আবার একটি অর্থনৈতিক চাপের মুখে পড়তে হবে, যা মোকাবেলা করা অনেকের পক্ষেই কঠিন হয়ে পড়বে। অর্থ ব্যবস্থাপনা সঠিক না থাকায় অনেক পরিবার বাবা-দাদার রেখে যাওয়া জমি বিক্রয় করতে করতে নিজের বাড়িটিও হারিয়ে ফেলেছে। এই দৈন্যতার সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে। বর্তমানে এলাকায় কেউ জমি/বাড়ী বিক্রয় করতে চাইলে আমাদের সমাজের ক্রেতা খুঁজে পাওয়া যায় না, বেহাত হয়ে পড়ছে আমাদের ভূমিগুলো। ভূমির মূল্য এমন পর্যায়ে পৌঁছে গেছে যে, আমাদের সাধারণ মানুষের সামর্থ্যই নেই তা ক্রয় করার। মানুষের জীবনে সঞ্চয় এবং পর্যাপ্ত পরিমাণ সঞ্চয় অপরিহার্য, যা মানুষকে একটি নিরাপদ অবস্থানে পৌঁছে দিতে পারে। জীবনের এই সবচেয়ে প্রয়োজনীয় সত্যটি আমরা খেয়াল রাখি না, তাই আমাদের জীবনও অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ হয় না, বরং সারাটা জীবন নানা সমস্যায় জর্জরিত থাকতে হয়। অর্থ সবকিছু নয়, কিন্তু জীবন পরিচালনায় অর্থের গুরুত্ব সর্বাধিক। মানুষ সচেতন ও সচেষ্ট হলেই তার আয় থেকে যেমন সঞ্চয় করা সম্ভব; একটি সময়ে সেই মানুষই সঞ্চয়ের মাধ্যমে তার জীবনের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে। এর অনেক সুযোগ সুবিধা আমাদের হাতের নাগালেই রয়েছে। শুধুমাত্র প্রয়োজন বিষয়টি বোঝা ও এক বা একাধিক পথ নিজের জীবনে প্রয়োগ করা এবং নিজের ও পরিবারের অর্থনৈতিক মুক্তি নিশ্চিত করা। অর্থ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে অর্থনৈতিক মুক্তির সেই পথকে খুঁজে পেতে চেষ্টা করবো।

আমরা প্রত্যেকটা মানুষই জীবন-জীবিকা নির্বাহের জন্য আয় করি। জীবনের ব্যয় নির্বাহ করে কীভাবে সঞ্চয়ের মাধ্যমে একটি নির্দিষ্ট অবস্থানে পৌঁছাবো, সেটিই মূলত অর্থ ব্যবস্থাপনা। অর্থাৎ (পর্যাপ্ত আয় – পরিমিত ব্যয় = নির্দিষ্ট লক্ষ্য পূরণের জন্য সঞ্চয়)। এখানে তৃতীয় বিষয়টি থেকে শুরু করতে হবে, সঞ্চয়ের নির্দিষ্ট লক্ষ্য থাকতে হবে। মনে করুন, আজ আপনার কাছে ১,০০,০০,০০০ (এক কোটি) টাকা সঞ্চিত আছে। বর্তমানে এটি অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানে জমা রেখে মাসে এক লক্ষ টাকা মুনাফা কোন চিন্তা ছাড়াই পেতে পারেন। তাহলে বর্তমান সময় অনুসারে আপনি নিরাপদ অবস্থানে রয়েছেন। যার নেই তিনি এমন একটি সঞ্চয়ের টার্গেট জীবনে সেট করবেন। এটি কতদিনে অর্জন করবেন সেটিও নির্ধারণ করতে হবে। মনে করুন, আপনার তেমন জমাকৃত অর্থ নেই। আপনি ১,০০,০০,০০০ (এক কোটি) সঞ্চয় করে আপনার জীবনকে নিরাপদ করতে চান। মনে করুন ২৫ বছর সময়ের মধ্যে আপনি এটি অর্জন করতে চান। তাহলে গড়ে মাসিক ৩৩,৩৩৩ টাকা আপনাকে সঞ্চয় করতে হবে। তাহলে আপনি ২৫ বছর পর এক কোটি টাকা সঞ্চয় করতে পারবেন। বিষয়টি সহজ করার অনেক প্রকল্প অনেক জায়গায় আছে। আপনি তেমন একটি গ্রহণ করতে পারেন। বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান তাদের কোটিপতি প্রকল্পে মাসিক মাত্র ৮,৬৯০ টাকা জমা দিলে ২৫ বছর পর আসল ও মুনাফা মিলে এক কোটি পাওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে। এতবড় একটি অর্জনের বা নিশ্চিত জীবনের জন্য আপনাকে মাসিক ৮,৬৯০ টাকা জমা করার উদ্যোগ তো গ্রহণ করতেই হবে। আপনার জীবনের জন্য প্রযোজ্য এমন আরও অনেক প্রকল্প হাতের কাছে পাবেন, যার প্রত্যেকটি আপনার জীবন বদলে দিতে পারবে। যদি আয় কম থাকে তাহলে আয় বাড়াবেন, একই সাথে বাজেট করে ব্যয় সংকোচন করেও আপনার নির্দিষ্ট সঞ্চয়ের পরিমাণ অর্জন করতে পারবেন। অর্থাৎ, লক্ষ্য অর্জন করতে হলে যথেষ্ট আয় থাকতে হবে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তা অর্জন করতে হলে ব্যয় সংকোচন বা পারিবারিক বাজেট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্র্ণ (যা আমাদের পরিবারগুলোতে প্রায় নেই বললেই চলে)।

কেন আমরা অর্থ ব্যবস্থাপনা নিজের জীবনে প্রয়োগ করবো?

নিজের ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখা – নিজের ভবিষ্যতের স্বপ্নদ্রষ্টা আপনি নিজেই হবেন। অর্থ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে আপনি জানবেন কবে আপনার অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে। একটি নির্ধারিত ছকের মধ্য দিয়ে জীবন পরিচালনা করতে হবে। আপনার ভবিষ্যতটি কেমন হবে তা আপনি নিজেই নিশ্চিত থাকবেন। একটি গাড়ি, একটি বাড়ী, নিরাপদ ব্যাংক ব্যালেন্স, সুন্দর ও উচ্চশিক্ষিত পরিবার এহেন সুন্দর স্বপ্ন আপনি দেখবেন এবং তা নির্ধারিত সময়ে আপনি অর্জন করবেন।

সঞ্চয় বাড়ানোর নানামূখী সুযোগ গ্রহণ করা- সঞ্চয় বৃদ্ধির জন্য বর্তমানে নানামূখী সুযোগ রয়েছে। আপনি স্বল্প আয়ের মানুষ হলে ছোট ছোট সঞ্চয় প্রকল্প গ্রহণ করে দীর্ঘমেয়াদে আপনার টার্গেট পূরণ করতে পারবেন। সঞ্চয় যদি ছোট পর্যায়ের হয় তাহলে আপনাকে দীর্ঘ সময় ধৈর্য ধরে আপনার লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য একাগ্র চিত্তে চেষ্টা করে যেতে হবে। এ ধরণের অনেক সঞ্চয় প্রকল্প আপনার আশেপাশে রয়েছে, আপনার সামর্থ অনুসারে এক বা একাধিক প্রকল্প আপনি গ্রহণ করতে পারেন।

প্রয়োজনীয় অর্থের যোগান – জীবনে চলার পথে অনেক সময় বড় বড় অর্থের প্রয়োজন হয়। হঠাৎ বড় অর্থ পাওয়ার জন্য আমরা ব্যবস্থা করে রাখি না। সন্তানদের উচ্চ শিক্ষার জন্য, বিদেশ গমণের জন্য, কোন ভাল জমি ক্রয় করার জন্য, বড় ধরণের অসুস্থতার জন্য হঠাৎ করে অনেক অর্থের প্রয়োজন হতে পারে। নিজের অর্থ না থাকলে ক্রেডিট ইউনিয়নের মত প্রতিষ্ঠানগুলোতে এমন ঋণ সিলিং তৈরী করে রাখতে হবে, যাতে যে কোন জরুরী প্রয়োজনে অর্থের যোগান পাওয়া সহজতর হয়। ধীরে ধীরে নিজের সঞ্চয়কে এমন পর্যায়ে উন্নীত করতে হবে যাতে এই প্রয়োজনগুলো নিজের সঞ্চয় থেকেই মেটানো সম্ভব হয়।

নিজের ভবিষ্যৎ সুদৃঢ় করা – অহেতুক ঋণ গ্রহণ না করে, প্রয়োজনীয় ও আয় বৃদ্ধিমূলক কাজেই শুধুমাত্র ঋণ গ্রহণ ও গৃহীত ঋণের অর্থ সঠিকভাবে কাজে লাগানো। এটি করতে পারলে নিজের ভবিষ্যৎ সুদৃঢ় করা যাবে।

প্রকৃত বন্ধুর মত কিছু তৈরী করে রাখা – যখন জীবনে দুঃসময় আসে, তখন বেশীরভাগ সময়ই আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধবদের দ্বারস্থ হতে হয়। অনেকেরই তিক্ত অভিজ্ঞতা রয়েছে এ বিষয়ে। কিন্তু ক্রেডিট ইউনিয়নের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোতে যদি ঋণ সিলিং তৈরি করে রাখা যায়, তাহলে সেটি আপনার দুঃসময়ে প্রকৃত বন্ধুর মত করে কাজ করবে।

আয় বাড়ানো – সুন্দর ভবিষ্যত গড়তে হলে প্রয়োজন পরিশ্রম, পরিকল্পনা ও সঠিক বিনিয়োগ। এর সবকিছু তৈরি হবে আপনার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা থেকে যে, কীভাবে আপনি আপনার শ্রম ও মেধা দিয়ে আয় বৃদ্ধি করবেন।

বার্ধক্য বয়সের নিশ্চিত জীবনের পরিকল্পনা করা – বার্ধক্য বয়সে চিকিৎসা এবং অন্যান্য প্রয়োজনে প্রচুর অর্থের প্রয়োজন হয়। এমন একটি ব্যবস্থা নিশ্চিত করা যাতে বার্ধক্য জীবনের প্রয়োজনীয় অর্থ নির্দিষ্ট বয়সে জমাকৃত থাকে।

করণীয় কী?

লক্ষ্য নির্দিষ্ট করা – জীবনের নিরাপত্তার জন্য সঞ্চয়ের লক্ষ্য বা পরিমাণ নির্দিষ্ট করতে হবে।

বাজেট – ব্যক্তিগত ও পারিবারিক বাজেট তৈরী ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে ব্যয় সংকোচন করতে হবে।

নিয়মানুবর্তিতা – জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে নিয়ম মাফিক কার্যকলাপ পরিচালনা করতে হবে।

প্রচন্ড আত্মবিশ্বাস – আমি পারবোই। এমন একটি দৃঢ় প্রত্যয় সর্বদা থাকতে হবে যা আপনাকে ধীরে ধীরে লক্ষ্যে পৌঁছে দিবে।

দূরদর্শিতা – দূরদর্শিতা জীবনের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজন। দেশ ও বিশ্বের পরিবর্তিত পরিস্থিতি অনুসারে কর্মপন্থা নির্ধারন করতে হবে।

মিতব্যয়িতা – মিতব্যয়িতাই সঞ্চয়ের অন্যতম হাতিয়ার। সঞ্চয় বৃদ্ধি করতে চাইলে অবশ্যই মিতব্যয়ী হতে হবে।

সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা – লক্ষ্য অর্জনের জন্য আপনার হাতে অনেক রকমের সুযোগ সুবিধা থাকবে। পারিপার্শ্বিক বিষয় বিবেচনা করে আপনার সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহনের ক্ষমতা থাকতে হবে।

পেশাগত ধারণা – আমাদের আশেপাশেই শতাধিক পেশায় মানুষজন কাজ করছে। সাধারণ পেশার মধ্যে দলিল লেখক, আমীনশীপ, ওকালতি, শিক্ষকতা, ব্যবসায় ইত্যাদি পেশায় সম্মানজনক আয় রয়েছে অথচ আমরা এক অনেক সময় কোন একটি নির্দিষ্ট পেশার ধারণা থেকে বের হয়ে আসতে পারি না, ফলে আয় সীমিত থেকে যায়।

নিজের ভাগ্য নিজে গড়া – মানুষ নিজেই তার ভাগ্যের বিধাতা। সঠিক পরিশ্রম এবং পরিকল্পনাই পারে কোন মানুষের ভাগ্য নির্ধারণ করতে। পরিশ্রম করলে আপনার ভাগ্য পরিবর্তিত হবেই।

একাগ্রতা, একনিষ্ঠতা, কর্মতৎপরতা ও প্রচন্ড পরিশ্রমী হওয়া – একনিষ্ঠতা ও একাগ্রতা থাকলে সবই করা সম্ভব। আপনি যে পেশায়ই আত্মনিয়োগ করেন না কেন, আপনাকে পরিশ্রমী ও কর্মতৎপর হতে হবে। সফলতা আপনার পেছন পেছন দৌড়াবে।

এছাড়াও নিজের জীবনকে নিরাপদ করার জন্য ৫টি সম্পদের ধারণা রয়েছে, যা অত্যন্ত সহজে অর্জনযোগ্য ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করে, সেগুলোর একটি ধারণা নিম্নে উল্লেখ করা হলোঃ

(১) আপদকালীন সম্পদ (অর্থ) – মনে করুন, আপনার প্রতি মাসে পরিবারের খরচ ৪০,০০০ (চল্লিশ হাজার) টাকা। তাহলে এক বছরের জন্য আপনার প্রয়োজন হবে ৪০০০০ x  ১২ = ৪,৮০,০০০ (চার লক্ষ আশি হাজার) টাকা। অর্থাৎ আপদকালীন সম্পদ হিসেবে আপনার ৪,৮০,০০০ (চার লক্ষ আশি হাজার) টাকা জমা থাকলে আপনি আপদ কালীন সঞ্চয় অর্জন করেছেন, যা অত্যন্ত দুঃসময়ে আপনাকে এক বছর  নিরাপদ রাখবে। এটি অর্জিত হলে আপনি পরবর্তী দীর্ঘ মেয়াদী সম্পদের দিকে দৃষ্টি দিতে পারেন।

(২) দীর্ঘ মেয়াদী নিরাপদ সম্পদ (অর্থ) – প্রতি বছরের জন্য যদি আপনার পাঁচ লক্ষ টাকার প্রয়োজন হয়। তাহলে, পাঁচ বছরের জন্য আপনার পঁচিশ লক্ষ টাকার প্রয়োজন হবে। এটি এফ.ডি.আর করে রাখা যাতে যে কোন সময় প্রয়োজন হলে এটি নগদ অর্থে পরিণত করা যায়। এটি অর্জিত হলে আপনি তৃতীয় বিনিয়োগে যেতে পারেন।

(৩) স্বর্ণ বিনিয়োগ – স্বর্ণ বিনিয়োগকে তরল বিনিয়োগ বলা হয়ে থাকে। এটি যে কোন সময়ে নগদ টাকায় রূপান্তরিত করা যায়। এর মূল্য বৃদ্ধিও ঘটে অভাবনীয়রূপে। গত বছর এক লক্ষ টাকা ছিল। এখন প্রায় তিন লক্ষ টাকা। তাই অধিক অর্থ থাকলে স্বর্ণে বিনিয়োগ করে রাখতে পারেন। এরপর স্থায়ী সম্পদে বিনিয়োগ করা যেতে পারে।

(৪) স্থায়ী সম্পদে বিনিয়োগ – বাংলাদেশের মত দেশে জনসংখ্যার তুলনায় ভূমি কম হওয়ায় ভূমি বা জমির মূল্য সবসময়েই উর্ধ্বমূখী। এটি বাড়তেই থাকবে। যদি উপরের ৩টি অর্জনের পর আপনার আরও অর্থ থাকে। তাহলে আপনি স্থায়ী সম্পদ ক্রয় করতে পারেন। স্থায়ী সম্পদ যদি ইনষ্ট্যান্ট রিটার্ন করে তাহলে বেশী ভাল হয়। যেমন- বাজার এলাকায় মার্কেট নির্মাণ করা হলে মাসিক ভাড়া পাওয়া যায়। এমনটি না হলে জমি কিনে রাখলে তাতেও আপনি লাভবান হবেনই।

(৫) নিজেকেই সম্পদে পরিণত করা – যারা উচ্চ শিক্ষিত তারা নিজেকে এমনভাবে তৈরি করবেন যাতে ভাল চাকরী পেতে পারেন। যারা উচ্চ শিক্ষিত নন, তাদের জন্য ভোকেশনাল প্রশিক্ষণ এর সুযোগ রয়েছে। নিজেকে যে কোন বিষয়ে দক্ষ করে, সম্ভব হলে চাকুরী – না হলে প্রশিক্ষিত ভোকেশনাল বিষয়ে নিজেই ব্যবসায় চালু করার মাধ্যমে নিজেকেই সম্পদে পরিণত করে তোলা। এছাড়াও, বর্তমানে অনলাইন ভিত্তিক ডিজিটাল মার্কেটিং, ওয়েব জিডাইন, ফ্রিল্যান্সিং অনলাইনভিত্তিক হাজারো সুযোগ রয়েছে, এগুলোর যে কোন একটিতে পারদর্শী হয়ে নিজেকে সম্পদরূপে গড়ে তুলে আপনি আয় করার মাধ্যমে নিজেকে আত্মমর্যাদাশীল ও আত্মনির্ভরশীল করে তুলতে পারেন।

সঠিক পরিকল্পনা ও চেষ্টা করলে সবটাই করা সম্ভব। ছেলে-মেয়ের বর্তমানে কোন পার্থক্য নেই। দক্ষতা অর্জন করলে যে কেউ সুন্দর জীবন নিশ্চিত করতে পারবে। প্রয়োজন হবে আয় বৃদ্ধি, ব্যয় সংকোচন এবং আপনার টার্গেট অর্জনে যথেষ্ট পরিমাণ সঞ্চয়। আয় বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজন সঠিক প্রশিক্ষণ, আয়ের সঠিক পথ নির্ধারণ, সঞ্চয়ের সঠিক প্রকল্প গ্রহণ যা আপনাকে লক্ষ্যে পৌঁছাবে।

সেলেস্টিন রোজারিও: ক্রেডিট ইউনিয়ন বিশেষজ্ঞ।