মহাকবি কায়কোবাদের ১৬৯তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে “মহাকবি কায়কোবাদ স্মৃতি সংসদ” গত ৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকার মালিবাগে এক আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে বক্তারা মহাকবির জীবন, সাহিত্যকীর্তি ও বাংলা সাহিত্যে তাঁর অবদানের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। সাংস্কৃতিক পর্বে তাঁর রচনা থেকে আবৃত্তি ও সংগীত পরিবেশিত হয়।
মহাকবি কায়কোবাদের ১৬৯তম জন্মবার্ষিকী (২৫ ফেব্রুয়ারি) উপলক্ষে মহাকবি কায়কোবাদ স্মৃতি সংসদ গত শুক্রবার ৬ ফেব্রুয়ারি এক স্মরণসভার আয়োজন করে। স্মরণসভায় মহাকবির জীবন-জীবিকা ও কবি – কর্ম বিষয়ে আলোচনা কবিতা আবৃত্তি ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়।
অনুষ্ঠানের আলোচনা পর্বে অংশগ্রহণ করেন মহাকবি কায়কোবাদের দৌহিত্র, এ, এস আশরাফউদ্দিন আহমেদ, নারায়ণ চন্দ্র শীল,সঙ্গীত পরিচালক ও সুরকার জামিউর রহমান লেমন, সরকারি দোহার-নবাগঞ্জ কলেজের বাংলা বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান ও অধ্যাপক এস, এম,মোশারফ হোসেন, “ইছামতীর বাঁকে গীতিনাট্যের রচয়িতা প্রখ্যাত গীতিকার ও কবি এম, এ করিম, কৃষিবিদ ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের উপ সচিব, মি. কৃষ্ণেন্দু সাহা, ফিরোজ খান প্রিন্স এবং নবাবগনঞ্জ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের সিনিয়র শিক্ষক মি.বিমল চন্দ্র সরকার ও আরও অনেকে।
আলোচনায় সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পায় পাঠ্যপুস্তকে মহাকবি কায়কোবাদের কবিতা অন্তর্ভুক্ত না থাকার বিষয়টি। এ প্রসঙ্গে আলোচকবৃন্দ হতাশা প্রকাশ করেন এবং দ্রুত তাঁর কবিতা পাঠ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য জোরালো আবেদন জানানো হয়।
জাকির আহমেদ লিটনের সঞ্চালনায়- আলোচকদের যুক্তিনির্ভর বক্তব্য, শিল্পীদের গানের মূর্ছনা এবং শ্রুতিমধুর কবিতা পাঠে অনুষ্ঠানটি হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত ও উপভোগ্য।
মহাকবি কায়কোবাদ রচিত মহাকাব্য “মহাশ্মশান”, গীতিকাব্য “অশ্রুমালা”, “অমিয়ধারা” প্রভৃতি গ্রন্থের উপর আলোচনা পর্বে অংশগ্রহণ করেন রকারি দোহার-নবাগঞ্জ কলেজের বাংলা বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান ও অধ্যাপক এস, এম,মোশারফ হোসে
মহাকবি কায়কোবাদ ১৮৫৭ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ থানার অধীন আগলা-পূর্বপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর প্রকৃত নাম কাজেম আল কোরায়শী। তিনি বাঙালি মুসলিম কবিদের মধ্যে প্রথম সনেট রচয়িতা হিসেবে স্বীকৃত। তাঁর সাহিত্যকর্মে দেশপ্রেম, মানবতা, ধর্মীয় চেতনা ও ঐতিহাসিক ভাবনা বিশেষভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে- বিরহ বিলাপ, মহাশ্মশান (মহাকাব্য), অমিয় ধারা, অশ্রুমালা প্রভৃতি।
১৯৫১ সালের ২১ জুলাই তিনি ঢাকায় ইন্তেকাল করেন। মহাকবি কায়কোবাদের সাহিত্যকীর্তি আজও বাংলা সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করছে এবং নতুন প্রজন্মকে দেশপ্রেম ও মানবিক মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ করছে। তাঁর জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় তাঁকে স্মরণ করছে।