আব্দুল মালেক সিকদার

সেই আমি

আমি এক নগন্য কবি লিখে যাই অবচেতন মনে সবই

আমি এক চিত্রশিল্পী আঁকি শাশ্বত প্রকৃতির  ছবি।

আমি পূরবী রাগে গেয়ে যাই বিধাতার অমিয় গান

আমি অজস্রপ্রানে শিহরণ জাগাইয়া করিব তাদের ত্রান।

আমি নবমন্ডলে উড়িয়া উড়িয়া  করি সন্ধান গ্রহ-তাঁরা

আমি বন্দনা করি তাঁদের তাজাপ্রানে স্বাধীনতা আনে যারা।

আমি নাগিনী ভয়াল উদ্যত ফণা হতে করি মণি চুরি

আমি সত্য সন্ধানের বেলাভূমিতে কুড়াই জ্ঞানের হিরক নুড়ি।

আমি মুক্তির গান গেয়ে ঘুমন্তদের জাগাইয়া তুলি

আমি কাব্যরসের সুধাছন্দের চঞ্চল এক বুলবুলি।

আমি সপ্তর্ষি নক্ষত্র-রাজি যেন একগুচ্ছ আলোকমালা

আমি নিরবে নিরবে সয়ে যাই প্রিয়া বিরহের জ্বালা।

আমি পূর্বাকাশে উদিত স্বাধীনতার রক্তিম সূর্য

আমি অন্যায় অবিচারের যুদ্ধক্ষেত্রের জয়ভেরী রনতুর্য।

আমি জয়নৃত্যের তালে তালে বীরবেশে সম্মূখে চলি

আমি ভোরের শিশির ভেজা যেন শিউলি ফুল কলি।

আমি মেহেদি রাঙ্গা কৃষাণী বধূর হাতের আলপনা

আমি সভ্যতা রচিতে করি কত যে কল্পনা।

আমি স্বদেশপ্রেমে উদ্বেলিত  বীরশ্রেষ্ঠ এক সৈনিক

আমি রনাঙ্গণে সহস্র শত্রুকে হঠাইয়া দেই দিকবিদিক।

আমি লেখনী ধরি স্বদেশকে নতুন করে গড়ার তরে

আমি সাম্যবাদের কাব্যে রচে জাগাই যারা আছে পশ্চাতে পড়ে।

আমি সমাজের অনিয়ম ভেঙ্গে পড়াবো  নিয়মের শৃংখল

আমি জীবন যুদ্ধে আগুয়ান অভিযাত্রী প্রানে আছে আত্মিকবল।

আমি রিটা, আমি সুনামি,আমি জলোচ্ছ্বাস

আমি খুনি,আমি ঘুষখোর, আমি স্বৈরাচারীর মহাত্রাস।

আমি মঙ্গলে রাখিয়া পা বাঁধিব সেথায় ঘর

আমি তাহারে করি আপন যে মোরে করেছে পর।

আমি আমারে ক্ষণে ক্ষণে দেখিয়া হই কত উতালা

আমি ধৈর্যের বাঁধ ভাঙ্গা ব্যথা-বেদনা সয়ে যাই কত জ্বালা।

আমি হৃদয় দহনে দহনে পেয়েছি করুণার অমিয় বর

আমি পথ চলি নির্ভিকচিত্তে আমার নেই কোন প্রানে ডর।

আমি রংধনুর সিঁড়ি বেয়ে বেয়ে রচিবো স্বর্গীয় নীড়

আমি আকবরী জেহাদে হতে চাই মহাবীর।

আমি ছন্দ পাগল এক বোদ্ধা  এক উদাস ঘরছাড়া

আমি কলমের বেয়নট আচঁরে দিয়ে যাই জাগরণ নাড়া।

আমি আনমনে লিখে যাই যখন যা ইচ্ছে হয় তাই

আমি সাম্য- স্বাধীনতা- সৌভাতৃত্বের গান গেয়েগেয়ে যাই।

আমি সূর্যকে ডান হাতে ধরি, বাঁ হাতে শনি

আমি গগন বিদারী শ্লোগানে করি মুক্তির ধ্বনি।

আমি হিরোশিমার আনবিক বোমার এক মহা হুঙ্কার

আমি বিশ্বের নির্যাতিত গনমানুষের পক্ষে বিপ্লবী চিৎকার।

আমি ফিলিস্তিন সিরিয়া,মায়ানমারে ওমরের তরবারি

আমি নব্য চেঙ্গিস বাহিনীর নিষ্ঠুর হত্যাযজ্ঞের নিন্দাবাদ করি।

আমি দুখিনী মায়ের নয়নঅশ্রু মুছি শপথে আচঁলে

আমি জন্মভূমি জননীর তরে লড়ি দেহ মনোবলে।

আমি শ্রমিকের ঘামে ঝরা দেহে হাতলের বজ্রমুঠি

আমি নিমিষেইভেঙ্গে ফেলি অত্যাচারীর প্রাসাদ-কুঠি।

আমি মানবতার জয়গান গেয়ে সর্বহারা জনতাকে ডাকি

আমি প্রভূর পরশলভে দিবসে- নিশীথে ধ্যানমগ্ন থাকি।

আমি হৃদয়ের দোয়ার খোলে প্রভুর ডাক কান পেতে  শুনি

আমি খোদার নাম জপে জপে খুঁজি ফিরি সোনার খনি।

আমি অরুন উদয়ের পূর্ব দিগন্ত রেখায় রক্তিম আভা

আমি নিয়তই বিলাইয়া বেড়াই শিষ্য মাঝে জ্ঞানপ্রভা।

আমি নিপীড়ক ভন্ডবেশী রাজশক্তির এক মহাভয়

আমি আদি,আমি অন্ত, আমি চিরন্তন, আমি অক্ষয়।

আমি বিপ্লবী সূর্যসেন,আমি ক্ষুদিরাম,ইলামিত্র,আশালতা

আমি বসি বলি দু:খসুখের কথা।

আমি মহাত্মা গান্ধীর অহিংস আন্দোলন দর্শনে দেশকে গড়িবো

আমি জাতীয় সংহতি মিলনের ঐক্যসুরে  স্বদেশের তরে মরিবো।

আমি ম্যান্ডেলার কালোধলো মানুষের সংগ্রামী মুক্তির গান

আমি পদ্মা- মেঘনা- যমুনা বহতা নদী স্বাধীনতা মুখরিত কলতান।

আমি সমুদ্র সফেন শংখের ভিতর মহা গর্জন

আমি সাগরের জলরাশি ধারায় মনিমুক্তা মহাজন।

আমি রবী ঠাকুরের “পৃথিবী” কাব্যে খুঁজি বিশ্ব প্রকৃতির রূপ

আমি নজরুলের ” মানুষ”কাব্যে  পাই যেন আত্মরূপ।

আমি পবিত্র কোরআনে শিখি অপার মহিমাময়ের তৌহিদের বানী

আমি তাই প্রানভরে আমলে চুমি তাঁর মহাগ্রন্হখানী।

আমি হিমালয়ের সর্বোচ্চ গিরি- শৃঙ এভারেষ্ট বিজয়কেতন হাতে

আমি পদদলিত করি মানুষের উচুঁনিচু ভেদাভেদ জাত-অজাতে।

আমি স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার এক অতন্দ্রপ্রহরী

আমি ঝড়-ঝঞ্ছা বিক্ষুব্ধ সমুদ্রে হালধরা ভাসমান তরীর কান্ডারী।

আমি অতলান্তিক সাগর সেচে খুঁজি ফিরি অমূল্য রতন

আমি ভূমিকম্পে কাঁপাই পাহাড়-পর্ব্বত কিবা অত্যাচারী রাজ সিংহাসন।

আমি সাহারার আগ্নেয়গিরির উদগীরন মহা ভয়ংকর লাভা

আমি পড়ন্তে ছড়াই গোধুলী বেলার আরক্তিম আভা।

আমি মেঘমালা শূন্যাকাশে এলোমেলো ঘুরিয়া ফিরি

আমি চন্দ্রালোকে বিহারী এক অপূর্ব স্বপ্নচারী।

আমি মহাবিশ্বে কৃষ্ঞ গহব্বর কিবা কৃষ্ঞচূড়া লালরক্তসম

আমি সেই সত্বা বিধাতা যারে সৃজিছে পবিত্রতম।

আমি আঁখিকোনে ঝিলিকে ঝিলিকে প্রকাশিত নূর

আমি রহি সাহরগের চেয়েও নয়ত বেশী দূর।

আমি চমকে চমকে দেই দেখা আপনি দিলে

আমি রয়েছি অন্তরে তাঁর যে দেখেছে চোখ মিলে।

আমি হিটলার, আমি মুসোলিনি আমি শাসক স্বৈরাচারী

আমি ত্যাগী,আমি ঋষী, আমি কাঙ্গাল পথচারী।

আমি ভিক্ষারীবেশে দ্বারে দ্বারে ঘুরি ভিক্ষার আশে

আমি দুর্দিনে থাকি কত না ছলে তব পাশে।

আমি তুফানের বেগে বয়ে যাই জনপথ ধরে

আমি বাঁচিয়ে তুলি তারে যে অযত্ন অবহেলায় পড়ে।

আমি বানভাসী অজস্র ধারা অগাধ জলরাশি

আমি মায়ের কোলে প্রস্ফূটিত ফুলসম শিশুর হাসি।

আমি নর, আমি নারী আমি যুগলে গড়ি

আমি নব নব মানবের নানা বেশ ধরি।

আমি দক্ষিনা মৃদুমন্দ সুমিষ্ট বায়ূ

আমি জাগ্রত, আমি উথ্বিত,আমি শত আয়ূ।

আমি দিগন্তজোড়া সবুজে সবুজ বনানী

আমি শস্য শ্যামলা ধরনীর নির্ঝর পানি।

আমি ধনধান্যে ফুলে ফুলে পুষ্পিত বসুন্ধরা

আমি ধনরত্ন,মণি- মানিক্যে মনিমঞ্জুষায় ভরা।

আমি নির্দয়, আমি সদয়,আমি ভাঙ্গা গড়ার কারিগর

আমি ভাটি, আমি উজান, আমি স্হির,আমি অনড়।

আমি পূর্ব, আমি পশ্চিম,আমি পূর্বাচল

আমি উত্তর,আমি দক্ষিন আমি মহাশক্তিবল।রচনাকাল:  ২০০৫ সাল