মুক্তি পাবে অবহেলিত ও অন্যান্য কবিতা
মুক্তি পাবে অবহেলিত
যুদ্ধ চলছে বিশ্বময়,
অস্ত্রের মুখে নিরব রয়।
নিপীড়িতের যত ভয়,
জীবনের কঠিন বিপর্যয়।
ভাষা আছে শত সহস্র,
শব্দগুলো তবু নিরব কাঁদে।
যার যত শক্তি আছে,
পৃথিবী তার মুঠোর মাঝে।
ভাষণে ভাষণে মানবতার গান,
ভূলুণ্ঠিত হয় শত সহস্র প্রাণ।
নির্যাতিতের বোবা কান্না!
কারো কিছু যায় আসে না।
নিদারুণ আর্তনাদ!বুক ফাটা চিৎকার!
ব্যর্থ হয় বার বার।
তবুও বাঁচতে চায় সুন্দর এ ধরায়,
যদিও বেঁচে থাকা কঠিন দায়?
আইন আছে,আছে নাকি বিশ্ব আদালত?
যার যত শক্তি আছে,দেখায় নিষ্ঠুর আলামত।
দখল করো যত পারো দুর্বলের মানচিত্র,
শরণার্থী নিজভূমিতে করো অবরুদ্ধ।
শক্তির কাছে ব্যর্থ আজ যত আইন আর আদালত,
মর্টার,গ্রেনেড,মিসাইল চালায়,নাই কোন কৈফিয়ত?
নষ্ট মস্তিষ্কের স্নায়ুকোষের হবে নির্মম অবসান,
মুক্তি পাবে অবহেলিত,নির্যাতিত যত প্রাণ।
৭ই জুলাই ২০২২ খ্রিঃ
কবিতা
আজ তুমি বড়ই অবহেলিত!
চাকচিক্যের রঙিন মলাটে আবদ্ধ!
কঠিন দুঃসময়েও তুমি নিরব,নিস্তব্ধ!
বাঁধাধরা শব্দের গন্ডিতে অবরুদ্ধ!
কবিতা,
আজ তোমাকে বাকরুদ্ধতার শৃঙ্খলে
আবদ্ধ করে দিলাম,
যদি পারো অবিনাশী শ্লোগানে,
ফিরে এসো পাথরের হৃদয়কে বিগলিত করে
মাটি ও মানুষের পথ প্রান্তরে
কৃষক শ্রমিক জনতার সহজ সরল অন্তরে…
পাঠক যদি বুঝে,
বিবেক যদি উঠে জেগে !
হয়তো তোমার মুক্তি হবে?
জন্মও তোমার স্বার্থক হবে।
২১শে ফেব্রুয়ারী ২০২২ খ্রিঃ
নিক্তি
কবি,
নিক্তি তোমার ঠিক আছে কি না?
নিরীক্ষা করে দেখো।
অন্যের ওজন মাপার আগে,
নিজের ওজন মাপো।
সত্যের ওজন কম হয় যদি,মিথ্যা হবে ভারী,
অভিশপ্ত জীবন নিয়েই দিতে হবে পাড়ি।
শান্তির নামে অশান্তির যদি করো চাষ,
নিঃসন্দেহে পরপারে পড়বে গলে ফাঁস।
বিবেক তোমার আছে কবি,সত্যের পথে করো ব্যয়,
কষ্ট কিঞ্চিত হলে পরেও থাকবে না কোন ভয়।
ক্ষমতার লোভে দিবানিশি যদি দাও কুমন্ত্রণা,
ধরা তুমি খেলে কবি বাড়বে শুধু যন্ত্রণা।
ষড়যন্ত্রকারী প্রতিদিন মরে বিবেকের তাড়নায়,
সত্যের পথে শান্তি থাকে ইতিহাসের পাতায়।
সময় থাকতে ফিরে এসো কবি শান্তির পথ ধরে,
সুন্দর জীবন পাবে তুমি পরম শান্তির নীড়ে।