ভাষা শহীদদের প্রতি ও অন্যান্য কবিতা

হাজারো রক্ত গোলাপ হয়ে

ফুটে আছো তোমরা

বাংলার সবুজ বাগানে-

ভোরের আকাশের নবারুন পতাকা

তোমাদের রক্তে লেখা বাংলার অক্ষর

অ-আ-ক-খ-ল-ব-শ

তোমাদের রক্তে লেখা স্বর্ণালী ইতিহাস

স্বাধীনতার গৌরব গাঁথা-

রক্ত বৃথা যায়নি তোমাদের

যাবেনা কোন দিনও

শোধ হবেনা তোমাদের রক্তের ঋণ।

তোমরা জন্মেছিলে রক্ত দিয়ে মায়ের পায়ের শৃঙ্খল ঘোচাতে

যে কালো হাত মায়ের গলা টিপে ধরেছিল

তোমরা সে হাত ভেঙ্গে দিয়েছিলে।

জয়টীকা ললাটে পরে

লুটিয়ে পড়েছিলে রাজপথে

ঘাতকের গুলিবিদ্ধ বুকের পাজরে

তোমাদের মৃত্যুহীন প্রাণ অমর ফিনিক্সের মত

তোমাদের লাশের স্তুপের উপর গড়ে উঠেছে

মাতৃভাষার শক্ত ‍বুনিয়াদ বিশ্বব্যাপী।

তোমাদের প্রাণের বিনিময়ে

বাংলা আর বাঙালীর পরিচয়-

প্রিয় বাংলা ভাষা।

তোমাদের ত্যাগের মহিমায় ভাস্বর

বাংলার আকাশ পাহাড় অরণ্য

নদী সাগর

তোমাদের স্মরণে অসীম ভালবাসা

অশ্রু হয়ে ঝরে বারবার

রফিক শফিক সালাম বরকত জব্বার

তোমাদের খুনে রাঙা নতুন প্রভাত

নতুন জীবনের হাতছানি দেয়

শুভদিন আসবে নিশ্চয়।

রক্তে ভেজা উর্বর মৃত্তিকায়

ফলবে এন্তার ধান কিশলয়

বাতাসের ঢেউয়ের তালে তালে

দুলবে তারা নাচের ভঙ্গীতে

সারা বিশ্বের অগণিত শিশু

শ্রদ্ধায় মাথা নোয়ায়

তোমাদের মহিমান্বিত স্মৃতির উদ্দেশ্যে

দরাজ কন্ঠে গায়-

আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙা

একুশে ফেব্রুয়ারি

আমি কি ভুলিতে পারি?

বসন্তমেলা যখন বসে পলাশ বনে

কৃষ্ণচূড়া রাঙা ফাল্গুনে

শিমুল রাঙা সাঁঝে

তোমাদের মনে পড়ে-

বেদনার তুফান বহে হৃদয়ের মাঝে

সূর্যের সাত রঙে আঁকা

তোমাদের মৃত্যুঞ্জয় ছবি

স্বদেশের মোহনীয় নিঃসর্গে

বিমূর্ত আশার স্বপ্ন

অমর সূর্য-সেনা-

একুশের পলাশ রাঙা প্রাতে

শ্রদ্ধার ডালি ভরা ফুল

শহীদ মিনারে অর্পন করি

তোমাদের স্মৃতির উদ্দেশ্যে

তোমরা তস্করের বিরুদ্ধে লড়ে

আমার কন্ঠে ‘মা’ ডাকার অধিকার

দিয়েছ ফিরায়ে বাহান্নর ফেব্রুয়ারির একুশে

 আপন জীবন দিয়েছ বিলিয়ে

মা, মাতৃভূমি ও মাতৃভাষা ভালবেসে

তোমাদের তাই শ্রদ্ধা জানাই বারবার।

পদ্ম ঝিলের বুক চিরে

সরিসৃপের মত একেবেকে

কালো পিচ পথ

চলছে শহরের দিকে।

নদী ভাঙ্গা ছিন্নমূল নারী-পুরুষ

বাঁধের উপর ডেরা বেঁধে আছে

গায়ে গায়ে ঘেষে।

দুর্বিসহ জীবন-

বে-আব্রু কিশোরীর বাগানে

হাজারো লোলুপ চোখ

নীল ছবি দ্যাখে

গঞ্জিকার নেশায় মাতাল মধুপ

বেহায়া পাঠার সুরে

পশ্চিমা গান ধরে

ধান্দাবাজ প্রজাপতি জমিজমা কেড়ে নেয়

কপালে তিলক এঁকে

গঙ্গোজল ছিটিয়ে সুদখোর শাইলক

ভূমিহীন ঋণ খেলাপীর

হৃদপিন্ড চাই তার।

অসহায় আদম দলে দলে

নিয়ন বাতির দিকে চলে

পতঙ্গের মত

চাই রোজগার, সংসার চলেনা আর-

ফরিয়া দালাল মহাজন বাটপার

বেশি বেশি উপরি চায়

সবাইকে খুশি করা হয়েছে বড় দায়

বিভ্রান্ত মিছিল তাই চলে স্বপ্নের শহরে

আয়-রোজগার হবে প্রচুর

ভরপেট খাবার জুটবে

সকাল দুপুর।

সুখের স্বপ্ন চাপা পড়ে যায়

দুঃস্বপ্নের জঞ্জালের নিচে-

নিয়ন আলোর চারপাশে

অন্ধকার চাপ চাপ,

ঝলমলে বিপনী বিতানে

নামী-দামী হোটেলের বারে

অতি সস্তায় বিক্রি হয় প্রেম

বসন্তের ফুল, মসৃণ ত্বক

জাতীয় সঙ্গীত, জাতীয় পতাকা।।

ক্ষুধার্ত পঙ্গপাল

দলে দলে চলে

মাটি থেকে বহু দূরে-

বিষাক্ত ধোয়ার কারাগারে

ধুকে ধুকে মরে-

পল্লবের ছাতার নিচে

যারা ছিল একদিন।