সুব্রত অগাস্টিন  গোমেজ

চাঁদের অমাবস্যা

আলো-চাঁদ ডোবে কালো-চাঁদে

রূপসীরে গ্রাসে জানোয়ার

হাওয়ার চিতায় চ’ড়ে কাঁদে

শাহজাদি রূপ কানোয়ার

সিরিংক্স, প্যানের হাতে বাজো,

তোমার পরান হ’ল সুর

অসুরের মুখে; আমি আজও

জানি না কীভাবে এই শুঁড়

ওপড়াল এ-কনকলতা!

দরিয়ায় ভাসে মানোয়ার,

ভিতরে শব্দ- নীরবতা-

রূপসীরে গ্রাসে জানোয়ার।

০৬-জুন-২০২৫


আলফা-ওমেগা

অমৃত মেঘের বারি- কথাতেই মেলে,

চাতক-চাতকী এক হ’লে।

সবুরে যখন কালো চাঁদের ও-পিঠ

আলোর এ-পিঠ ওঠে জ্ব’লে।

মিলন- দিগন্তরেখা, লক্ষ্মণরেখার

মতো এক গোলাপি বাঁধন

যে-সর্পরজ্জুর পাকে ভূত-ভবিষ্যৎ

পরস্পরে করে নীরাজন।

তোমার রঙিন ছায়া যে-উঠানে পড়ে

সেখানে আমার ঘুঘু চরে-

আমি ধীরে গ’লে যাই অমিয়া-সায়রে,

হেমানল জ্বলে… চরাচরে।

২৭ জুন- ২০২৫


আচার্যা

কতদিন তোমাদের দেখি নাই, গাছ,

সব দেখা দেখে নিল লনে-ওঠা মাছ

আর এক সবুজ-শাড়ি উল্টো-পরা কেউ

বইয়ের প্রচ্ছদে তুলে অচ্ছোদের ঢেউ—

মা মনসা! পিছে কারো চিয়ার বোতল

খোলে না-তো— ফেঁসে গেছে— রুদ্ধ চলাচল,

অবনাগবন যত, এও-কি— নির্বাণ?

কুমির গিয়েছে ঘুরে তেঁতুলবাগান

সৈয়দ তারিক-হেন সাদা-দাড়ি নেড়ে;

কদমতলির বুকে খালের কিনারে

কোমরপানিতে তিন রংবাজের চোখে

গোলাপি পানির হেন ফেন্সিডিল ঢোকে;

ফরাসডাঙায় কেনা ফরাসেতে চেপে

মাদমোয়াজেল ওড়ে। কচি-কচি পেঁপে-

-পাতা ফোটে আশরীর বসন্তের কালে,

ও গো গাছ, গাছ, তুমি আমাকে তাকালে!

১১-অগাস্ট-২০২২


লাল শুক্কুর — নীল শনি

ডিমের ভিতর ডিম আবার ডিমের ভিতর ডিম

সূর্য মাথায় স্থির আমার সমুদ্র নিঃসীম

ডাকছে আমায় ফেউ আমার রক্তে উথাল ঢেউ

তুমি-কি তুমিই নাকি তোমার মতন কেউ

তুমি-তো অন্ধ আমার মস্তকলন্দর

মিথ্যা-কি এই শাড়িসায়ায় দুধেলা গন্ধ

রমণীর বনফায়ারে আমি সাতজোড়া শরীর

খাঁড়া-চাঁদ নামছে নীচে গলাতেই সরাসরি

তার আগে গ্রাবু-গ্রাবু খাব ছয়-দু’গুণ বারো

কলিজার বটিকাবাব শনিবার শুক্রবারও

যদি আজ কালকে আবার যদি কাল আজকে ফেরে

আজকের বাসি-খাবার ভুলে কাল গিলিস নে রে

০৭-এপ্রিল-২০১২