মোশাররফ গঞ্জর

রোরুদ্যমান

সদ্য ফোঁটা ফুলের সাথে কথা

অদ্য ঝরা পাতার ব্যথা বুকে-

বিরহ সমীরণ! 

মন ভালো নেই শিশির ভেজা ভোরের

বিষন্ন আকাশ নিরাশ মুখশ্রী 

তারও কিছু কষ্ট আছে বলার-

দুঃখ আলাপন!

দীঘল রাতের গাঢ় আঁধার কাঁধে চেপে 

ঠায় দাঁড়িয়ে বাঁশের ঝাড়; ক্লান্ত দেহ

তার কোলে এক নিথর শরীর ধর্ষিতা হিম

এমন ভোরের সাক্ষী হতে চায়নি সেও

এমন সকাল দেখবে বলে রাত জাগেনি

পাখপাখালি; নিরাক নদী-

পাল তোলা নাও ভাসেনা তার

বুকের স্রোতে ; নিরবধি-

ভাটিয়ালির মূর্ছনাতে উড়ে না আর

সারস শাদা যূথচারী 

শকুন নামে লাশের টানে

বেনোজলে লাশের সারি! লাশের সারি!

এই লোকালয় পাপের ভাঁড়ার

মানুষ হয়ে ফিরবো না আর জনপদে

বেতের ঝোপে জোনাক হবো;

আকীর্ণ সবুজ দূর্বা হবো; গাছের সারি বুনোপথে।

২৯-০৯-২০২৫

অসমীকরণ

অনেকদিন নিরম্বু উপোস আছি

কৃত্রিম হাসির আড়ালে ক্ষুধা চেপে বলে যাই ভাল আছি

ভাল মানুষ আছি।

সমুদ্র’পর উপুড় হয়ে শুয়ে আকাশ 

যেভাবে পিপাসা মেটায় বুক,মুখ,উরু 

সন্ধিস্থলের চুইয়ে পড়া জলে

তুমি পাশে নেই সেভাবে

দারুণ অভাবে স্বমেহনে দহন কিঞ্চিৎ কমে-

ক্ষুধা রয়ে যায়।

বেলা শেষে জলের বদলে পাই শিবের কলকি

পরানের তপ্ত মাটি কি ধোঁয়াতে ভিজে?

ভাতের বিকল্প কি ভাতের পচাই?

জলতো আমারও আছে-

কান্নার জলে তো তৃষ্ণা মিটে না

তুমি পাশে নাই!

বাহরাইন 

০৩-০৬-২০২২

একটি নষ্ট গণিত

জীবন মানে আমি আছি 

মৃত্যু মানে নাই

নাই মানে নাই, শূন্য।

জীবনের মান যা-ই থাকুক

তোমার আমার আশনাই

আচম্বিতে ভুলে যাবে

তাতেও কোন দোষ নাই।

এটাই দস্তুর বস্তুর পৃথিবীতে 

পাপ-পূণ্যে তবে কেন উদ্বিগ্ন? 

মৃত্যুমান যেখানে শুধুই শূন্য। 

বাহরাইন 

৩০-০৮-২০২১

বিবর্তিত ঈশ্বর

স্পিনোজার ঈশ্বর হয়ে যে শিশু জন্মেছিলো;

প্রেমের প্রতীক হিরন্ময় কান্নাতে যার- 

দুলে ছিলো বাগানের সব ক’টি ফুল

শশব্যস্ত উড়ন্ত বলাকারা ন্যস্ত নয়নে 

করছিলো ঈশ্বরের জন্মতিথি পালন

বুদ্ধের অহিংস হাসি এঁকে যে শিশু 

কেড়ে নিতো প্রাপ্য চুমু; ভালবাসার

ছিলো সবার প্রিয় অতি

প্রজাপতি,ঘাস ফড়িং,মাটি;

বৃষ্টির জল,নদী,ঝিঁ ঝিঁ ডাকা একলা দুপুর।

জন্মের দায় নিয়ে বেড়ে উঠা সেই শিশু 

ভুলে যায় নিকট অতীত

ভালবাসার চুক্তি সনদ ছিঁড়ে- 

ধীরে ধীরে ভারী করে ঘৃণার মগজ ভাগাড় 

আঁধারের বদ্ধ কারাগার

চিন্তার সব দ্বার রুদ্ধ করে

বনে যায় মাইকেল,রহিম,পরেশ

ধর্ম বিয়ায়ে যায় সন্তান;বিভেদ-

দেয়ালে রক্তের দাগ।

২৫-১০-২০২৩

বাহরাইন

মায়া

হুইস্কির গেলাশ

আগুনে বরফকুচি

বুদবুদগুলো স্ফুলিঙ্গ হয়ে ভাসে

অসংখ্য বুদবুদ বেশুমার বিস্মৃত স্বপ্ন 

কতকাল আগে দেখা তোমার চেনা মুখ-

ঝাপসা হয়ে স্মিত হাসে

ঝাপসা মুখ!মায়া!কাছে আসে

হৃদয় নিঙড়ে ভালবাসে

‘এসব আর খাবেনা’ বলে শাসন করে

আমি রোমাঞ্চিত হই

ভীষণ আহ্লাদে গলি

‘ঠিক আছে খাবনা’ বলি

আগুন,বুদবুদ আর ঝাপসা মুখ

তনু-মনে শীতল পুলক জাগায়

তপ্ত হৃদয়ে বৃষ্টি নামায়

আগুনে আগুন নেভে যদি;নিভুক

ঈর্ষায় লোকে নিন্দা করে;করুক

ব্রাত্য জীবন আমার স্বয়ম্বরা 

হুইস্কির গেলাশ

আগুনে বরফকুচি…..

৩০-১০-২০২৩