বৃষ্টি ও অন্যান্য কবিতা

আমাদের অদেখা রয়ে গেল যাকিছু

তার দীর্ঘ তালিকার প্রথমভাগে তোমার নাম

বৃষ্টি । 

দেখা হলো না আমাদের – 

কোন বৃষ্টি মাতাল দুপুর-

রোদ আর বৃষ্টির একযোগে ঝরে পরা-

মিহিদানা বৃষ্টিকণা সোনালী রোদ ছড়িয়ে 

যেখানে মিলিয়ে যেতে যেতে রংধনু আঁকে- 

তুমি চোখের কোণে সেই রোদ মেখে 

আর কোনদিনও দেখবেনা । 

কোন মাঝরাতে- 

আজকের রাতের মতোন-

মেঘের গর্জনে বিভোর ঘুম ভাঙ্গে যখন-

বৃষ্টির লয় ধীর থেকে দ্রুতগামী-

নিঃসঙ্গ আমি-

জানালায় মুখ গুঁজে তোমাকেই খুঁজি-

চিৎ হয়ে শুয়ে শুয়ে তুমিও কি রাত পাহারায়?

আহা খুব ক্লান্ত বুঝি । 

পাহাড়ের আলে আলে-

অসীম সীমান্ত ঠেলে-

সবুজের নানা আঁকিবুকি-

দেখা হয়নি আমাদের ।

পাহাড়ের কোলে জমে যে জলরাশি

তার বুকে পা ডুবিয়ে বসে থাকা হবে না জানি- 

তবু কেন খুব ভোরে, আযানের ডাকে জেগে গেলে-

আঁতিপাঁতি তোমাকেই খুঁজি?

এমন তো নয় যে জীবন থেমে গেছে-

আনন্দ-হাসি-গান-প্রেম-সুখ- ছুটে চলা- 

সব ঠিক আছে- 

তুমি বলবে “এ তোমার মধ্যরাতের বিলাসীতা – 

যেজন জীবন ছেড়েছে, সেই জানে হারানোর বেদনা-“

কিন্তু তুমি জেগে থাকো মৃত্যুহীন হয়ে, কি করে?    

প্রতিবার বৃষ্টি এলে 

তুমি এসে দাঁড়াও হাত পেতে- 

বৃষ্টির ফোঁটায় ফোঁটায় স্মৃতিপাত হয়ে । 

যখন যাই তখন প্রবল জোয়ার

যখন ফিরি তখন কেবল ভাটা 

জীবন সাগেরর অদ্ভুত সমীকরণ

দিনে ক্ষণে বছর জুড়ে আঁটা।

যা চেয়েছি সব পেয়েছি জানি

কী পাইনি হিসেব করিনি তা

যাদুর কাঠির স্পর্শে পরম্পরা

আধেক জীবন আয়নাবাস্তবতা।  

তুমুল করে তোমায় চাই যদি

ভুল ঠিকানায় ভুল চিঠি আর কত

না থেকেও আছো যেমন করে 

ব্যথা বোনা কাব্যে অবিরত।

এমনও দিন আসবে ঠিকঠাক 

খোঁজ খবরের পালা যাবে চুকে

“কেমন আছো কেমন চলছে সংসার”

থাকবে হয়তো জড়িয়ে অন্য বুকে।

সময় দ্রুত ঘনিয়ে আসে ফিকে

আমার আমি ফুরায় দিনের শেষে

তোমরা যারা বেঁচে আছো বলো

মরে যেও আসমুদ্র ভালোবেসে।

গড়তে জানিনা, পারিনিও তা জানি

ভেঙ্গে গেছে যা, জুড়তেও শিখিনি তো

সময়ের ঘড়ি কাঁটাসুদ্ধ গেছে ক্ষয়ে 

পলিমাটি ঘন ঘোলাটে কাঁচের নিচে

মাটিতে জলের দাগ কেঁটে রচি তাই

আধসেদ্ধ কাব্য কতকখানা। 

তাতেও সুখ কম ছিলো না জানো

পাখির শিসে কূহক জীবনকথন 

গাছেদের সারি কথকতার দোলাচল 

বাতাসের ফিস্ ফিসানির কানাকানি

শিউলি কাশের শুভ্র উড়াউড়ি

হলুদ রোদের রেনুকণা ভালোবাসা। 

যদি বলো হায় গড়ছো ভাঙ্গছো কেবল 

গুঞ্জনে তোলো বিষাদের মাখামাখি

স্বাদহীন হৃদয় মারী মড়কের ঘর

নিঃসীম ঠোঁটে দানাদার ফসল কতক

জীবনকে তবু ভালবাসার গল্প বলি

আদরের চুমু কপালের ঘাম ছোঁয়।

যখন একটা একটা করে মুখোশগুলো

খুলে গেলো টের পায়নি,

এতটাই নি:শব্দে ঘটেছে।

বুঝলাম যখন

মুখোশের জায়গায় প্রতিস্থাপিত

থক্ থকে দগদগে রঙিন মাংসল

দেখে চমকে উঠি। বিভৎস।

প্রখর আলোর ঝলকানিতে

ঝলসে যায় চোখের মনির ভেতর পর্যন্ত।

শরীর জ্বলে যায় চিতার মৃতদেহ

চেতনা লুপ্ত হতে হতে টের পাই

কেউ ঠেলে ধরে সোজা করে দিচ্ছে যেন।

অবশেষে দুই পায়ে

শক্ত হয়ে দাঁড়াই

বুড়ো আঙ্গুল দিয়ে মাটি খাঁমচে থাকি।

এই আমি সত্যিকারের আমি

অপর্যাপ্ত

অপরিণত

অজ্ঞ

মুখোশহীন।