বৃষ্টির পর ও অন্যান্য কবিতা

বৃষ্টির পর

আকাশে উড়ছে

গুটি পীপিলিকা

ফোঁটা ফোঁটা রঙ

উজ্জ্বল উপল

মাটির মটকায়

জল ভরে কে

কানায় কানায়

সোনালি তরল

বৃষ্টির পর

স্থির হতে হতে

আমরা অনড়

কৃত পাপ ঢেকে

ক্ষত চেপে রেখে

এর ওর মুখ চেয়ে

নীল হয়ে আছি

দরজায় দরজায়

পেতে রাখি আড়ি

অক্ষত দেহ নিয়ে

বরফ কেটে কেটে

নির্বিকার আমরাইফিরে গেছি বাড়ি।

জনি জনি!

এক্ষুনি বেরিয়ে আয়

হাফ প্যান্ট জামা কালিঝুলি মাখা

খেতে বসবে না কিছুতেই

ছোটটি দিব্যি বসে পড়ে টেবিলে

জনি জনি!

তোর জন্যে নাকাল সবার কাছে

দুম দাম কিল চড় ঘুষি

নাকের পানি চোখের পানি এক

গাঁক গাঁক করে কিছু বলে জনি

টেনে ধরে রাখা যায় না

স্কুলে ভুরি ভুরি নালিশ সালিশ

জনি জনি!

স্পিচ থেরাপির কথা জানে না কেউ

কাকু আমাদের সামনে আদর করে না

খুব মিষ্টি করে লতা মঙ্গেশকরের গান গাইতেন কাকী

শ্বাসের ব্যামো থাকলেও— মিষ্টি করে— কী লিখি তোমায়

কলোনির বিকাল নেমে আসতো ফেস পাউডার

লিপস্টিক আর বেগুনি টিপে

মাথার বামপাশে চুলগুলো টেনে বেণী করে

ঝুলিয়ে দিতেন

পুনম ধিলোঁ পদ্মিনী কোলাপুরে স্টাইল

কবজিতে চিকন সোনালী হাতঘড়ি

রূপমকে সাথে নিয়ে কাকী হেঁটে বেড়াতেন

কলোনির বাউন্ডারির এমাথা ওমাথা

কারো ঘরে ক্বচিৎ যেতেন

কখনো পেছনের আম-লিচু বাগানের ভেতর

এলোমেলো কিছুক্ষণ

দূর থেকে কলোনির মায়েদের মুখ— ফিক ফিক হাসি

ছিটিয়াল, মহিলা ছিটিয়াল!

জনি জনি!

কোথায়, লুকালি কোথায়?

আমাদের জন্যে দুর্লভ ফ্রিজটায় কাকী

পুষে রাখতেন রঙ-বেরঙের চকলেট

অফিসের এ্যানুয়াল প্রোগ্রামে মিলনায়তন

জুড়ে থৈ থৈ দর্শক

হারমোনিয়াম বাজিয়ে কাকী গেয়ে চলেছেন

লতা মঙ্গেশকর— ঘাড়টা একটু কাত— মিষ্টি সুর

জনি জনি!

স্টেজে উঠে পণ্ড করিস না সব

প্রেশার কুকারে গরুর মাংস কষে লাল

চোখ মুছতে মুছতে আদা-পেঁয়াজ কাটা

মহিলা ছিটিয়াল, ছিটিয়াল!

জনি জনি!

খেলায় নেয় না তোকে ওরা

মা মারবে, মা কপালে চুমু খাবে

পাবনায় তাঁর বাড়ি

শুনতাম ভালো ঘরের মেয়ে

লেখাপড়া গান-বাজনায় ভালোকাকীর নামটা মনে নেই।

শট গ্লাস সেজে আছে বারে

যন্ত্রশরীর বেয়ে টুপ টুপ

স্পন্দিত বুকে নামছে কাম

আহত মনন থেকে গল গল

ঝরছে সুন্দর

টুলগুলোয় মন্থর বসে থাকা

নেমে যাচ্ছে তাপমাত্রা আটে

কৃষি ও বয়নের ইতিহাস

মানুষের ধৈর্যের গল্প বলে

ফ্যান্টম থ্রেড অব্দি আসতে

কতো কতো গান তৈরি হয়ে যায়

গুহা থেকে পাথর থেকে গড়িয়ে

কসম, কবে যে থমকে গেছি

বিষের পেয়ালায়, জানা নেই

তবু পৃথিবীতে কোনো না কোনোসুন্দর আজও নিঃশব্দে আসে!