মোশতাক আহমেদ
ছবির ভেতর ছবি
লিখতে গেলে হয় না লেখা রাজকন্যের কাব্য
আঁকতে গেলে হয় না আঁকা কী নিয়ে যে ভাববো?
আব্বু বলেন শোন বলি আজ খোকা
পাঠ্য বইয়ের পাতায় মনটা ঝোঁকা-
লেখাপড়া বাদ তুই কী নিয়ে যে ভাবিস
হেট স্যারে কন তুই ছেলেটা আস্ত গবেট রাবিশ।
এসব বলা কওয়ায় আমি ধার ধারি না কিচ্ছু
আমার নাকি অবাধ্য এক ক্ষ্যাপাটে মন বিচ্ছু
কাজকর্মে মন বসে না খেলায় থাকি মেতে
পাখির গানে আরও মাতায় বৈশাখি ধানখেতে।
ভাটিরদেশে উদাস মাঝি গান গেয়ে যায় বেয়ে
হাতছানি দেয় নদীর ধারে ঢোলকলমির মেয়ে
এই বোশেখে তেপান্তরে ধান কাটে কৃষাণে
রোদে ভেজা শরীর জুড়ায় মৈঠালি সুর গানে।
এসব রেখে মন বসে না লেখাপাড়ায় আমার
আমার এ মন ঘুরে বেড়ায় নিসর্গ ক্ষেত খামার
পাহাড় বেয়ে ঝরনা নামে হরিণছানা তীরে
জানলা গলে সূর্য আসে আমার ছোট্র নীড়ে।
ছবির ভেতর ছবি দেখে মনের ভেতর নিত্য
মাতিয়ে রাখে বাঁচিয়ে রাখে হরবোলা এই চিত্ত।
—————————————————————————————
সকালবেলার পাখি
বকুলফুলের গন্ধে বিভোর
সূর্য আনে সোনালি ভোর
কান্তা গোলাপ আমার প্রিয় ফুল,
মন সুবাসে হলো যে ব্যাকুল-
সকালবেলা উজান গাঙে
স্রোতের টানে দুপার ভাঙে
নায়ের মাঝি পাল খাঁটিয়ে
উঠাইলো মাস্তুল।
কিচিরমিচির পাখির কোলাহলে
পদ্মপাতায় শিশিরকনা জ্বলে
ভোরের আলোয় জানলা খুলে রাখি
ডাক দিয়ে যায় সকালবেলার পাখি।
সোনারোদের চুমকি ঝিলিমিলি
আলোক-পাতের গল্প নিরিবিলি।
বনলতায় জড়িয়ে আছে
নয়নতারার কলি,
আজ প্রভাতে কে শোনালো
ভোরের গীতাঞ্জলি।
দিঘির জলে মাছের টাপুরটুপ
শ্যাওড়া গাছে কাকের ছানা চুপ
ফাগুন দুপুর বাজায় নূপুর
অনুভবে হদয় রাঙায় খুব।
পলাশ জবা জুঁই চামেলি
কনক চাঁপা টগর বেলি
অর্ঘ্য দেবো অঞ্জলিটা ভরে,
আমাকে দাও জাদুর কলম
হে বিধাতা সুস্বাগতম
শব্দগুলো – অনেক যত্ন করে
লিখবো আমি অন্তরে অন্তরে।
——————————————————————————————-
দেশটা আমার
বন বীথিকার ছায়ায় ঘেরা
মেঘ মেঘালির মায়ায় ঘেরা
সবুজ শ্যামল গাঁও,
সোঁদা মাটির গন্ধ মাখা
ফুল ফসলের চিত্র আঁকা
গাছে গাছে পাখি নাচে
ধানের দেশে সবুজ মাঠে
ঢেউ খেলে যায় বাও।
কুমড়োলতা জাংলা ছাওয়া
দিচ্ছে দোলা পূবাল হাওয়া
দিঘির জলে সাঁতার কাটে
বুনোহাঁসের ছাও।
মাঠঘাট বিল তেপান্তরে
মিষ্টি রোদের চুমকি ঝরে
মাঠে মাঠে সোনার ফসল
স্নেহে ভরা মায়ের আচল
বুকের মাঝে সুখের হাসি
দেশটা মাগো ভালোবাসি।
নদীর ঘাটে পথের বাঁকে
কৃষ্ণচূড়ার পাতার ফাঁকে
কূহু কূহু কোকিল ডাকে
গাঁয়ের বধূ গোমটা দিয়ে যায়,
রাখালিয়া গানে গানে
সুর তুলেছে উদাস প্রাণে
যাচ্ছে মাঝি দূর উজানে
রূপ কাহিনীর গাঁয়।
বাঁশির সুরে পাখির শিষে
লতায় পাতায় আছে মিশে
ছোটটো কুঁড়ে সুখের নীড়ে
মায়া মমতায় আছি ঘিরে-
মন হরা এই দেশে-
জন্মভূমি মায়ের সমান
জীবন দিয়ে করবো প্রমাণ-
প্রাণ থাকতে এটুক মাটি
দেবো না ভিন দেশীর ঘাঁটি
জীবন দিয়ে দেশটা আমার
যাবোই ভালোবেসে।