কবিতা,
তুমি শুধুই বর্ণ দিয়ে গাঁথা মালা
নিশ্চল, নিশ্চুপ, মূক হয়ে আছ বইয়ের পাতায়।
তুমি কি মুখর হয়ে উঠতে পারো না?
পারো না কি বজ্র
নিনাদে প্রতিবাদ করতে?
মানুষ কেন মানুষকে ঘৃণা করে?
কেন মানুষে মানুষে এত ভেদাভেদ?
কেনই বা এত খুনাখুনি, হানাহানি?
কবিতা,
একবার শুধু বইয়ের পাতা ছেড়ে বেরিয়ে এস
হ্যামিলনের বংশীবাদক-এর মতো
মোহাবিষ্ট সুর তুলো
জাগিয়ে দাও নিস্তব্ধ পৃথিবীকে।
তাড়িয়ে নিয়ে যাও তাদের
দুর্গম কোনো গহিন বিবরে,
অথবা ডুবিয়ে দাও গভীর নদীতে
স্তব্ধ করে দাও সমগ্র পৃথিবীকে।
কবিতা,
শুধু একবার জ্বলে ওঠ
জীবন্ত আগ্নেয়গিরির ফুটন্ত লাভা হয়ে।
ছড়িয়ে পড় চারদিকে, সমগ্র বিশ্বে
জ্বালিয়ে পুড়িয়ে ছারখার করো
ওই মানুষগুলোকে,
যারা নরকের কীট।
আমি নিরোর বাঁশি বাজাব, আর দেখব
তোমার রুদ্ররোষের কড়াল ধ্বংসলীলা।
পৃথিবী পাপমুক্ত হবে, শান্ত হবে ধরিত্রী
তারপর না-হয় ফিরে যাবে
বইয়ের পাতায়।