আলী আজগার রানা
ভয়ের বরফ গলতে শুরু করেছে,
উত্তর থেকে দক্ষিণ ,পূর্ব হতে পশ্চিম পর্যন্ত,
ক্রমশই দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হচ্ছে
দৈনিক সংগ্রামী জনতার সংখ্যা
হাজার হতে লক্ষ ও কোটিতে পৌঁছে যেতে
সময় নেবে না আর বেশি দিন ।
ধূসর আর বাদামী বালির বাঁধ
আর কতো দিবস রুখতে পারে স্রোত।
এ স্রোত সরিয়ে দিতে সক্ষম সুউচ্চ পাহাড়,
এ স্রোত ভেঙ্গে দিতে পারে পাথরের দেয়াল
এ স্রোত মানেবে না কাঁটা তারের বেড়া
এ স্রোত শুধু সম্মুখে এগিয়ে চলে
এ স্রোত পিছু হটতে শেখে নি,
এ স্রোত যে জনতার স্রোত ।
জনতার এই ধ্বনি প্রতিধ্বনি হয়ে ছড়িয়ে পড়তে পারে
গ্ৰাম হতে শহরে,অলিতে গলিতে,
মেঠোপথ আর কালো চকচকে পিচঢালা রাস্তায় ।
এ স্রোত হতে পারে নতুন ইতিহাসের বাহক
এ স্রোতে আসতে পারে একবিংশ শতাব্দীর নূর হোসেন
এ স্রোত হতে পারে রফিক, শফিক আর জব্বারের
এ স্রোতে উড়তে পারে মতিউর রহমানের উড়োজাহাজ,
এ স্রোতে উঁকি দিতে পারে জয়নুল আবেদীনের ক্যানভাস
এ স্রোতে গর্জে উঠতে পারে সুকান্তের কর্কশ ধ্বনি
রফিক আজাদ ক্ষুধা জ্বালায় বলে উঠতেই পারেন
ভাত দে হারামজাদা না হয় মানচিত্র খাবো।
হয়তো তালসোনাপুরের তালেব মাস্টারের অনুরোধে
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় বইটি লিখবেন নতুন করে
কোথাও কোন রোমান্স নেই।
হয়তো নজরুল ইসলাম চিৎকার করে বলতে পারেন
মোরা আকাশের মতো বাঁধাহীন ,
মোরা মরু সঞ্চার বেদুইন ।
ছড়িয়ে পড়বে, ছড়িয়ে যাচ্ছে, ছড়িয়ে গেছে এ স্রোত
এ স্রোত আমজনতার,এ স্রোত ক্ষুধার্তের স্রোত
এ স্রোত বিবেকের , এ স্রোত জনতার ।