পেডোফাইল নগরে ও অন্যান্য কবিতা

তোমার ভীত পেডোফাইল নগরে

এখনো উড়ে বেড়ায় দুটি বোকা ঘুঘু

কথা বলে,গান গায়..

মানুষের চোখ দুটো তো আর স্বপ্ন দেখে না

খুজে চলে মহাযুদ্ধের অশ্বখুরের ছাপ

দুটো বোকা ঘুঘু অশ্বত্থ গাছ খুজে পায় না-

মৃত ঘাসে নর রক্তের জমাট…..

নিঃসঙ্গ চাঁদ,বিরহী মৌমাছি 

কই যাচ্ছে- যত উলটপালট হাওয়া,

মশাদের হাঁপানোর শব্দ

পাতাঝরার মৌসুমে ঝাউতলার গলিতে

তুমি চুমু খেতে শিখেছিলে….

এলোভেরা তুলে নাও

বুকের বোতাম খুলে

পাথরকুচিতে লিখে দাও-

বিগত জীবনে যা জমিয়েছ

সবই ডুবে গেছে শঙ্খঘোষের কবিতায়…

কি চাইবে  আর তুমি 

এই অন্ধ স্তব্ধ দিন

একা এক একটা ঘর, পাশের নদী

শীতের হাওয়া যখন তখন

ঝাপটে আসে

মরা ময়ালের মতো পড়ে আছো…

কি চাইবে তুমি

কালো রক্তের সব ক্যানভাসে তুমি ঝুলে ছিলে

 ওই রাস্তাটা হারানোর পৃথিবী আর স্বাভাবিক হয়নি…..

বয়ঃসন্ধি রাত, সংকীর্ণ পাড়ার গলি, প্রচুর ধোঁয়া

অশান্ত দুটো চোখ, রুক্ষ চুলের বেণী

পড়ে রইলো লাল চাদরে

পৃথিবী তখন  তার বাঁশবনে শুয়ে আছে জাদুকরের মুখোশে

তুমি মরা ময়ালের চোখে 

ফেলে আসা বন খুঁজো, গালিব যে বনে বহুদিন ধরে নিজেকেই খুজেছে 

আর তুমি খুজেছো দুটো চোখ

নীল নীল আলেয়ায়…..

স্পর্ধা নিয়ে ঘুমিয়ে থাকা বুনোঝোপ

রোমাঞ্চকর রাতগুলোতে অভিযানে

তুমি খুজেছই শুধু দুটো চোখ

চোখগুলো এখন শুধুই গহীন এক বন….

তুমি কি চাইবে আর

এতো.. এতো রাত

 কোনোকিছু স্বাভাবিক নেই 

একদিন হয়তো সব ঠিক হবে

আমি শুধু তোমাকে পেরোতে শিখবো না..

পেরেগ্রিন ফ্যালকনের মতো ছোঁ করে তুলে নেবো

যা জমিয়েছিলাম গত শীতে একটা খেজুরের গাছের নীচে ঘুমিয়ে, হেমন্তের মাঠ খুড়ে, শুকনো ঘাসের গন্ধ,কাঁদাজলের চিহ্ন,গোবর ন্যাপা উঠোনের শিউলি,আমার অনেক চেনা এক মাঝির সুর

সমস্তই আমি মেনে নেবো, ড্রয়ার থেকে বের করে সব বাজে চিন্তার ঝড় ফেলে দিবো সন্ধ্যানদীর জলে

যদি তুমি মুন্ডপাশায় গিয়ে অপেক্ষা করতে বলো, ভেজা সবুজের ভেতর,সন্ধ্যের প্রদীপ জ্বলা, শাঁখ বেজে উঠা এক বাড়িতে আমার জন্য যাও, হারিকেনের আলোয় অন্ধকার খুজতে যাও

গরম ভাত আর সরিষার তেলে ভাজা মরিচ আর সামান্য নুনে ডিনার সারবো

মধ্যরাতে বেরিয়ে পড়বো শিকারে শিশির পায়ে, বিলের পথ দিয়ে সে অনেক দূর, টেঁটায় গাথা শোল গজারের আর্তনাদ শুনবো

সেবার তুমি বলেছিল- মেনে নাও, কুয়োর জলে ফেলে দাও যা এনেছিলে….