হিমবাহ ও অন্যান্য কবিতা

বরফস্তূপের মত 

ভেসে যাওয়া স্মৃতির সাগরে

বিলোপ হয়ে যাওয়া সংলাপে

যতটাই জুড়ে দিতে চাই বাক্য 

শব্দেরা যেন সায় দেয় না আগের মত

ফাঁকা রাস্তা ফাঁকা যেন সর্বত্র 

সম্পূরক ভাবনা এ জনপদে 

পাথর হয়ে বুকে বসে যায় স্পর্শগুলো 

খুশি গুলো যেন অভ্যন্তরীণ বিলাপে বিভোর 

মনের ভেতরের অবুঝ শিশুটি কী

বুঝতে চাইবে না এতদিনে 

 ছেড়ে আসা আর ছেড়ে যাওয়া

থেকে সব কিছুর শুরু আবার

যারা সাত থেকে সাত মাসে

পৃথিবী বদলে দেয় 

আমি বোধহয় তাদের দলে

আমি আঁচল ছুঁয়ে যাওয়া 

এখনো সেই নাবালক শিশু 

যারা জন্ম বৃত্তান্ত নয়

শুধু ভালোবাসাতে পরিচয়

আমি বোধহয় সেই দলে

ভালো মন্দের বিচার বিশ্লেষণ না করে 

যে দেয় ডাক মা বলে 

আমি বোধহয় সেই আদিম দলে

যারা একটু ভালো লাগার জন্যে 

যে মা মুছে দেয় নিজস্ব 

প্রতিটি দিনরাত্রির হিসেব

আমি বোধহয় সেই দলে 

আমি মায়ের দলে…

নবমী পেরিয়ে দশমীর সন্ধ্যায়ও 

কন্ঠ ভারী হয়ে আসে 

বিসর্জনের ভয়ে 

আলোকসজ্জা এত রঙের বন্যা 

কাঁটা হয়ে বিঁধে মনের আকাশে 

মানুষ বলে 

দীর্ঘকালের অনস্তিত্ব আর দূরত্বে 

নদী গড়েছে নতুন অববাহিকা

স্রোতেরা ভুলে যায় 

অবগাহন হৈমন্তী সন্ধায় 

অথচ দেখ সন্ধ্যার আকাশে 

কেমন বন্দী নিঃস্ব নীরবতা 

দূরমূল্য অশ্রুজল 

ধেয়ে আসছে আমাদের দিকে 

প্রেমের সৎকার হয়না 

ভালোবাসা ভাষা খুঁজে পায় না 

আরও একটু কাছে থেকে গেলে

দোষআজও হলো না শোনা

কি দীঘল পথ ভেঙ্গে গেছে

উপরে থাকা আকাশ

শুধু আঙ্গুলে লেগে থাকা বিস্ময়ে 

বিমূঢ় একাকী বিশ্বাস

ঝর্নার মতোই শরীর জুড়ে

তুমি আশ্চর্য রকম স্বাধীন

যেখানে খুশি রাখতে পারো হাত

লতার মতো জড়িয়ে ধরে

খানিকটা বাঁচিয়ে রেখো অপাঠ্য রাত

মায়াবতী মেঘ যেন ঘিরে রেখেছে

সর্বত্র অসীমের অধিকার

অবগাহন করে ভরসা

দুহাতে তুলে নিয়ে যায় সেখানে

যেখানে নেই কোন দাবী অযথা

ভালো লাগা যতই হোক পুরোনো

সে কি মানে কোন অধিকার 

ভালবাসা যতই হোক বর্ষীয়ান অতীত 

তবু যেন বিস্ময়ে আজো হতবাক