শিরীষকাঠের সিন্দুক
অর্জুন গাছের মাথায় হাওয়া ঘোরে। বাতাসের ধাক্কায় পাতাগুলো কেঁপে ওঠে। এদিকে হেমন্তের সন্ধ্যা একরাশ অন্ধকার নিয়ে হামাগুড়ি দিয়ে এগোচ্ছে পৃথিবীর দিকে। পৃথিবীর রং মুছে গেছে। চোখে মেলে ক্যানভাসের দিকে তাকালে শূন্যতার বিবর্ণ ছাই রঙের আলো এসে বিদ্ধ করে তোরাব খাঁর এক জোড়া ঘোলাটে চোখ। আলো ফুরিয়ে যায় দ্রুত। বাদুড়ের মসৃণ ডানায় ভর করে সন্ধ্যা নামে দ্রুত। মানুষগুলো নেতিয়ে পড়ে। দ্বিকবিদিক ছুটতে থাকা মানুষেরা সেঁধিয়ে যায় ঘরের ভেতর। শেয়াল কিংবা বাগডাশের ভয়ে সন্ধ্যার পর ঘরের বাইরে বেরুতে চায় না কেউ। দূরাগত শেয়ালের ডাকে কারো কারো হৃৎপিণ্ড কেঁপে ওঠে তেলচিটে কাঁথার নিচে শুয়েও!
হেমন্তের বিষণ্ন সন্ধ্যায় বারান্দায় হোগলার চাটাই বিছিয়ে বাঁশের খুঁটিতে শরীরটা ঠেস দিয়ে সিন্ধান্তে পৌঁছয় তোরাব খাঁ—সে দীর্ঘ এই জীবনের ইতি টানতে চায়! হাওয়াটা তখনো অর্জুন গাছের মাথায় ঘুরছিল। পাতায় পাতায় নাচছিল। হঠাৎ গাছের মাথায় শব্দ শোনা গেল। তোরাব খাঁ বাতাসে কান জোড়া খরগোশের মতো খাড়া করে রেখে অর্জুন গাছটার শীর্ষে চোখ তুলে তাকালো। এতক্ষণে অন্ধকার নেমে গেছে। কর্কশ অন্ধকারের অতলে তলিয়ে গেছে গাছের ডালপালাগুলো। চোখে কিছুই পড়ে না। শুধু অন্ধকারের ভেতর একতাল অন্ধকার দাঁড়িয়ে রয়েছে—এটুকুই বোঝা যায়। তোরাব খাঁ একদৃষ্টে অন্ধকারের দিকেই তাকিয়ে রইল। জরিপ করতে লাগল‚ গাছে পাখি কিংবা অন্য কোনো প্রাণীর অস্তিত্ব টের পাওয়া যায় কিনা।
তোরাব খাঁ অনেকক্ষণ ধরে অর্জুন গাছের দিকে তাকিয়ে থাকার পর চোখ জোড়া নামিয়ে নিলো। আর কোনো পাখি কিংবা অন্য কোনো প্রাণীর ডাক শুনতে পাওয়া গেল না। শব্দটা পখির ডানা কিংবা অন্য কোনো প্রাণীর ঠ্যাঙের সঙ্গে ডালপালার সংঘর্ষের কারণেও হতে পারে। সময় এগোয়। তোরাব খাঁ বাতাসে উৎকর্ণ হয়ে বসে থাকে।
মুহূর্তেই বাতাস হু হু করে কেঁদে ওঠে। অন্ধকার ছুঁয়ে একরাশ হাওয়া এসে ধাক্কা খায় তোরাব খাঁর শরীরে। বয়সের ভারে নেতিয়ে পড়া শরীরে হাওয়া এসে ধাক্কা দিতেই সে সামান্য নড়েচড়ে ওঠে। হাওয়াটা ঠাণ্ডা। সামান্য হিমেল ছোঁয়া। হেমন্তের রাতের হাওয়া এমনই হয়—সামান্য শীতের আমেজ টের পাওয়া যায়। তোরাব খাঁ সেই ঠাণ্ডা বাতাসের বুকের ভেতর নিজের কান জোড়া গেঁথে বাতাসের কান্না শোনে—বাতাসের তীব্র কান্নার শব্দে অন্ধকার বিষিয়ে ওঠে মুহূর্তেই! হচ্ছেটা কী? বাতাসে চেনা মাটির গন্ধ—গন্ধটা হুড়মুড়িয়ে ঢুকে পড়ে তোরাব খাঁর নাকের ভেতর। সে প্রাণভরে শ্বাস নেয়। শরীরের সবটুকু সামর্থ্য জোগাড় করে বাতাস টেনে নেয় ফুসফুসের ভেতর।
হারিকেনটা জ্বলে উঠতেই তোরাব খাঁ তেতে ওঠে। রাহেলা হারিকেন জ্বালিয়ে বারান্দার এককোণে রেখে দিতেই সে ভয়ানক রেগে গেল। হারিকেনের সলতেটার অবশ্য সেদিকে কোনো ভ্রুক্ষেপ নাই। সে আপনমনে হারিকেনের নিচের ডিবে থেকে তেল শুষে নিচ্ছে। কাচের বেষ্টনীর ভেতর সলতেটাকে নির্লজ্জের মতো জ্বলতে দেখে তোরাব খাঁর দম খিঁচে এলো। গালাগাল দিতে লাগল রাহেলাকে। অকথ্য শব্দের তীক্ষ্ণ বাণে জর্জরিত করে ফেলল মুহূর্তেই। ঘরে খাওন নাই আবার ত্যাল ফুরাও—তোরাব খাঁ বলল। রাহেলা চুপ থাকে। মুখে টুঁ শব্দটিও করে না। তির্যকগতিতে বাক্যব্যয়ের পরও রাহেলার এই ধরনের নীরবতা তোরাব খাঁকে আরও উস্কে দিলো। মাগি‚ ত্যাল কি গভরমেন্টের রিলিফে আহে‚ নাকি তোর শেইখ ভাতারেরা ব্যারেল পাঠায়?—ফুঁসে ওঠে তোরাব খাঁ।
তোরাব খাঁ বেশিক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে পারে না। শরীরে সায় দেয় না। ইদানীং বেশিরভাগ সময় তাকে বসেই কাটাতে হয়। এই মুহূর্তে তোরাব খাঁ অবশ্য দাঁড়াতে চায়। কিন্তু সেই শক্তিটুকু দুটো পায়ে সঞ্চয় করে উঠতে পারে না।
অনেকক্ষণ ধরে খেঁকিয়ে তোরাব খাঁর শরীরটা নেতিয়ে আসে। বুকের ভেতর ধুকপুকানিটা বেড়ে যায়। বুক দ্রুত উঠানামা করে। ফুসফুস দ্রুত হাওয়া টেনে নেয়। জীর্ণশীর্ণ শরীরটা তখনো বাঁশের খুঁটির সঙ্গে ঠেস দিয়ে ধরে রাখে। হোগলার চাটাইয়ে অনেকক্ষণ সময় ধরে বসে থাকতে থাকতে পাছার মাংস অসাড় হয়ে এসেছে—তোরাব খাঁ টের পায়। তবুও সে উঠে ঘরে যাবে না। গোঁয়ার্তুমিতে পেয়ে বসেছে তাকে।
একটা পাখি ডেকে ওঠে। নীরবতা ভাঙে। তোরাব খাঁ অর্জুন গাছের মাথায় দৃষ্টিনিক্ষেপ করে। ঘোলাটে চোখ অন্ধকারে আরও ঘোলাটে হয়ে যায়। পাখিটা অর্জুন গাছে বসেনি‚ পুবদিকের সজনেগাছের ডালে বসে ডাকছে। শব্দটা ওইদিক থেকেই ভেসে আসছিল। হারিকেনটা তখনো জ্বলছিল। তোরাব খাঁ একবার হারিকেনের দিকে তাকিয়ে একদলা থুতু উঠানে নিক্ষেপ করে চোখ বুঁজে দুই পা হোগলার চাটাইয়ে ছড়িয়ে দিলো। ঘুমের ঘোর ঘনিয়ে এলো তার চোখে? নাকি দিনের ক্লান্তি এসে ভর করেছে শরীরে? রাহেলা এখনো ঘরের ভেতর চৌকির ওপর বসে আছে। শরীর কিংবা মননে ক্লান্তি কিংবা হতাশা তিলার্ধও ছায়া ফেলতে পারেনি। তোরাব খাঁর ঝাঁঝালো বাক্য কিংবা অশ্রাব্য কটুবাক্যও তার কর্ণকুহরে পৌঁছয় না। গা-সওয়া হয়ে গেছে।
অন্ধকার ফুরোয় না‚ দীর্ঘ থেকে আরও দীর্ঘতর হয়। বাতাস অর্জুন গাছের মাথায় কখনো হু হু করে কান্না করে আবার কখনো বা বিষধর দাঁড়াশের মতো বুকে ভর দিয়ে ফুঁসে ওঠে! বাইরে শেয়াল ডাকে। বাগডাশে গৃহস্থের মুরগি নিয়ে পালায়! লোকেরা টুঁ শব্দটিও করে না‚ ভয়ে কিংবা আতঙ্কে। রাহেলা তোরাব খাঁর কাছ ঘেঁষতে সাহস পায় না। আতঙ্কে ডুবে থাকে আগাগোড়া। চৌকির ওপর বসে ঝিমুতে ঝিমুতে কখন যে বিছানায় শরীরটা নেতিয়ে পড়ে‚ তা অবশ্য টেরই পায় না। হেমন্তের মাঝরাতে অবশ্য কিছুটা ঠাণ্ডা পড়ে। বাতাসে সামান্য শীতের ছোঁয়া থাকে। লোকেরা তখন খুপরিমতো ঘরের ভেতর নোংরা তেলচিটে‚ গন্ধওয়ালা কাঁথা মুড়ি দিয়ে গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন। কিন্তু তোরাব খাঁ ঘরের বাইরে বারান্দায় হোগলার চাটাইয়ে বসে বাঁশের খুঁটিতে পিঠটা ঠেস দিয়েই আধশোয়া হয়ে ঘুমিয়ে থাকে। সন্ধ্যা থেকে বসে থাকতে থাকতে অন্ধকার ঘন হয়ে এলে চোখের পাতা ঘুমে ভারী হয়ে আসে তার।
হারিকেনের আলো জ্বলতে জ্বলতে ফুরিয়ে যায়। তোরাব খাঁ গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন। বাইরে কোনো সাড়াশব্দ নেই। খোঁয়াড়ে মুরগিগুলোও নিশ্চুপ। হাওয়া নেই। অর্জুন গাছের মাথায় একরাশ অন্ধকার কুণ্ডলী পাকিয়ে ঝুলে আছে পাতাভর্তি ডালে।
তোরাব খাঁর স্বপ্নের মতো দিন ছিল। ছবির মতো দিন ছিল—ভ্যান গঘের ক্যানভাসের মতো রৌদ্রোজ্জ্বল একেকটা দিন ছিল তার। আজকের এই দিন আর সেদিনকার সেই দিনগুলোর বড় তফাত। অন্ধকারের অতল গহ্বরে তলিয়ে যাওয়া সেই দিনগুলোর কথা মনে পড়তেই তোরাব খাঁ চুপ মেরে যায়। নিয়তিকে যৌক্তিক নিয়মে মেনে নেওয়া ছাড়া উপায় কী? সে মেনে নেয়। শুধু তোরাব খাঁ নয়‚ তার মতো আরও অনেকেই নদী ভাঙনের কবলে পড়ে বিস্তর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নদীর বিস্তীর্ণ গর্ভে বিলীন হওয়া একেকটা গাঁ। সেইসব গায়ের হাসি-কান্নার গল্পগুলো আজও নদীগর্ভে স্তব্ধতার খোঁয়াড়ে পতিত হয়ে আছে। তখনো তোরাব খাঁর পায়ে শেকল পড়েনি। দুটো পায়ে ছিল অবাধ স্বাধীনতা। হরিণ-শাবকের মতো তিড়িংবিড়িং করে লাফিয়ে দূরদূরান্তে চলে যেতে পারত—কোনোরকমের বাঁধাই ছিল না। হেঁটে যতদূর যেতে পার যাও। উড়ে যেতে চাও? বাঁধা নেই। শুধু দুটি ডানার অভাবেই উড়তে পারত না।
তোরাব খাঁ খাল পেরিয়ে ওপারের বাদাড়ের ভেতর ঢুকে পড়ত দুপুরবেলা। সূর্য তখনো মাথার ওপর লম্বালম্বিভাবে আলো দিতো। সোনারঙ রোদের ঝিলিকে নদীর পানি চকচকিয়ে উঠত। রোদের আগুন দগ্ধ করত ওপারের ওই দীর্ঘকায় গাছগুলোকে। গাছের পাতায় পাতায় পিছলে পড়ত রোদের স্ফুরণ! খালের ওপারে বেতবনের পাশেই করমচা গাছে লাল রঙের পাকা করমচা ঝুলে থাকত। তোরাব খাঁ সেই গাছের করমচা ছিঁড়ে আনত। খালের ওপার মাঠ পেরিয়ে কিছুটা পথ হেঁটে গেলেই শতবর্ষী বটের মাঠ। ওই মাঠে প্রতিবছর মাঘের শেষে মেলা বসত। মেলাটি প্রাচীন বটগাছটাকে কেন্দ্র করে হতো। সেই মেলায় দূরদূরান্তের গাঁও থেকে ছুটে আসত সাধু-সন্ন্যাসীরা। তারা দল বেঁধে বটগাছের নিচে আস্তানা গেড়ে বসে থাকত।
মাঠের ধারে দীর্ঘকায় শিমুলগাছটাও বিস্তীর্ণ মাঠসহ নদীর হা-মুখে বিলীন। তোরাব খাঁ শকুন দেখতে প্রায়ই ওই মাঠে গাছটার ধারে যেত। গাছটা ছিল অন্যরকম‚ একাকী দাঁড়িয়ে ছিল মাঠের মাঝখানে। আশপাশে অন্য কোনো গাছ ছিল না। এপ্রিলের মাঝামাঝিতে গাছে যখন ফুল আসত‚ দূর থেকে মনে হতো মাঠের মাঝখানে লাল আগুনের ঝাণ্ডা পুঁতে রেখেছে কেউ। গাছটির নিচেই ছিল ভাগাড়। লোকেরা গরু কিংবা অন্যান্য প্রাণী মরে গেলে স্থান হতো ওই শিমুলগাছের নিচে। গায়ে কারো গরু মারা গেলে মড়া গরুটাকে দড়িতে বেঁধে টানতে টানতে ওই গাছটার নিচে ফেলে রাখা হতো। শকুনও ছুটে আসত মরা গরুর মাংসের গন্ধে! বাতাসে গন্ধ শুঁকে মাংসলোভী শকুনেরা দল বেঁধে ছুটে আসত। দিন কয়েকের মধ্যেই সাবাড় করে ফেলত সম্পূর্ণ গরুটা—শুধু মাটিতে বিছিয়ে থাকত হাড়গুলো‚ সঙ্গে রক্তমাখানো পচা‚ গলিত মাংসের থকথকে আস্তরণ।
ঘুম ভাঙতেই আঁকতে ওঠে তোরাব খাঁ!
স্বপ্নটা মগজের ভেতর কামড়ে ধরেছিল। চোখ মেলে তাকাতেই একটুকরো রোদ এসে ছুঁয়ে গেল আলতো করে। তোরাব খাঁ দুর্গন্ধটা টের পায়। ঘাম আর পেচ্ছাবের গন্ধ মিশে উৎকট একটা দুর্গন্ধ বাতাসে ছড়িয়ে পড়েছে। রাহেলা দেখার আগেই সে লুঙ্গির দিকে তাকায়। লুঙ্গির মাঝখানে ভেজা। মুহূর্তেই চোখ সরিয়ে নেয়। ইদানীং প্রস্রাবের বেগ চেপে রাখতে সে অক্ষম হয়ে পড়েছে। রাতে ঘুমের ঘোরেই ব্যাপারটা ঘটে যায়—টেরও পায় না। ইদানীং এমনই হয়। কিছুই যেন তার বোধগম্য হয় না। ব্যাধিটাও শক্তহাতে চেপে ধরেছে শ্বাসনালী। বুকের কাছে পুরোনো কফ কাশির দমকে ঘড়ঘড় আওয়াজ তোলে। তোরাব খাঁ আরও আশ্চর্য হয়। হেমন্ত বিকেলের বিষণ্ন হলদে আলোয় নিজেকে অন্যরকমভাবে পরখ করে।
তখনো সন্ধ্যা নামেনি। ধোঁয়ার মতো একরাশ হেমন্তের কুয়াশা কাচের পাতলা আস্তরণ তুলে দাঁড়িয়ে আছে। সেই কুয়াশায় অলৌকিক হাতছানি। তোরাব খাঁ মারা গেল! অতি সহজেই। মানুষ স্বাভাবিকভাবে যেরকম মারা যায়।
তোরাব খাঁ মারা যাবার পরদিন সন্ধ্যায় রাহেলা চৌকির নিচ থেকে মান্ধাতার আমলের একটা পুরোনো সিন্দুক বের করে আনলো। অত্যধিক ধুলোবালি-পড়া শিরীষকাঠের সিন্দুক। তালায় মরচে পড়ে গেছে। সিন্দুকটির দিকে তাকাতেই রাহেলার চোখ ঝলমলিয়ে উঠল। কী আছে ওটার ভেতরে? প্রাচীনযুগের প্রত্ন খুঁজে পাওয়ার মতো চাপা উত্তেজনা নিয়ে সিন্দুকটির কাঠের শরীরে রাহেলা জরিপ চালাতে লাগল। সিন্দুকটি ছিলো তোরাব খাঁর! বেঁচে থাকতে কেউ এটার ধারেকাছেও যেতে পারত না। কঠিন হুঁশিয়ারি ছিলো; সিন্দুক না ধরার। একরকম ভয় কিংবা অনর্থক ঝামেলা থেকে রেহাই পেতে রাহেলাও সিন্দুকটির ধারকাছে যেত না। নিদেনপক্ষে তাকিয়েও দেখত না। এই প্রথম জিনিসটাকে এতটা কাছ থেকে দেখার‚ স্পর্শ করার সুযোগ পেয়েছে।
সিন্দুকটির ভেতরে কী এমন আছে? কী কারণে এই সিন্দুকটি ধরা সম্পূর্ণ নিষেধ ছিলো‚ রাহেলার জানা নাই। সিন্দুকটি খুলতে হবে। কিন্তু চাবি কোথায়। চাবি ছাড়া তো খোলা যাবে না। রাহেলা কিছুক্ষণ সিন্দুকের পাশে থ মেরে বসে থাকার পর এক কার্যকরী সিদ্ধান্তে উপনীত হয়—তালা ভেঙে ফেলার। মুহূর্তেই তালা ভেঙে ফেলার বিষয়টি তার মাথায় এসে পড়ে।
কিছুক্ষণ পর তালা ভেঙে ফেলা হলো।
রাহেলার চোখ জোড়া নিবদ্ধ হয় শিরীষকাঠের সিন্দুকের পেটের ভেতরটায়। তারপর একে একে আবিষ্কার হয় বহুদিনের পুরোনো গুপ্তধন! সন্ধ্যার বাতাস অর্জুন গাছের পাতা ছুঁয়ে ঢুকছিল ঘরের ভেতর। সেই বাতাসের মৃদু আলোড়নে কম্পিত হয়ে হারিকেনের শিখাটা নেচে ওঠে। রাহেলার আর অপেক্ষা সইছিল না। সম্পূর্ণ সিন্দুকটা উপুড় করে ঢেলে দিতেই মাটিতে গড়িয়ে পড়ল প্রাচীনযুগের প্রত্নের মতো একেকটা মহামূল্যবান বস্তু।
লেখকের প্রকাশিত উপন্যাস : তীরন্দাজ