মিকা

রংধনুতে বসেছিল মিকা। একটি ছোট বিড়াল। পা ঝুলিয়ে বসে গান গাইছিল। হঠাৎ সে পড়ে গেলে রংধনু থেকে। 

নিচে ছিল চারটি কুকুর। এবং তাদের মা। ঘাড় উঁচু করে তারা দেখল বিড়ালকে। চারজনে দৌড়ে ছুটে গেল। নিয়ে এল একটি জাল। চারজন চারদিক থেকে ধরল সেটি। যেন বিড়ালটা জালে পড়ে। ব্যথা না পায়। মিকা ঘুরে ঘুরে নিচে পড়ছে। আর বলছে মিয়াও বাঁচাও। মিয়াঁউ আমাকে বাঁচাও। 

ঠিক সেই সময়, উড়ে এল একটি ঈগল পাখি। তার পায়ের নখ ধারাল। সেই নখে খামচে ধরল মিকাকে। তারপর উড়তে থাকল বনের দিকে। 

মা কুকুর বলল, দৌড়। দৌড়াও ঈগলের পিছু পিছু। কুকুরছানারা ও তাদের মা দৌড়াতে থাকে। যে করেই হোক মিকাকে  বাঁচাতে হবে। নিচ থেকে তারা শুনতে পেল,মিয়াঁউ। মিয়াঁউ।

ঈগলটা বসল একটা উঁচু গাছে। সে বিড়ালকে বলল, এবার তোমাকে মজা করে খাব। কথা শুনে মিকা ভয় পেয়ে গেল। ভয়ে ভয়ে বলল, আমি তোমাকে একটা গান শোনাতে চাই। তারপর আমাকে খেও। 

ঈগল পাখা ঝাঁপটায়। বলে, বেশ তো। তাই হোক। শোনাও তোমার গান। 

সে গান শুরু করে –

তানোর মানোর গানোর

চশমা পরা বানর

বানর ফল খায় 

লাফিয়ে ছুটে যায়। 

সেই গাছের আরো উঁচুতে বসে ছিল একটা বানর। সে গান শুনে নিচের দিকে তাকায়। দেখে বিড়ালের মহাবিপদ। ফল খাচ্ছিল সে। তার হাত থেকে হঠাৎ একটি ফল পড়ে গেল। ফলটি ছুটে এসে পড়ল ঈগলের মাথার উপর। আর অমনি পাখিটা মাথা ঘুরে পড়ে গেল নিচে। তখন বানরটির লাফিয়ে এল মিকার কাছে। 

বলল, তাড়াতাড়ি। উঠে বস আমার পিঠের উপর। গাছ থেকে বানর নামতেই দেখল একটি শিয়াল। 

সে জিভ বের করল। বলল, বাহ। একটি বিড়াল বাচ্চা পেয়ে গেলাম। এবার মজা করে খাওয়া যাবে। 

বানর বলল, দাঁড়াও তোমাকে মজা করে খাওয়াচ্ছি। সে লাফিয়ে উঠল একটি গাছে। হায়, বানরের একটি পা আটকে গেল। দুটো চাপা ডালের ফাঁকে। আর তখন মিকা বানরের লেজ ধরে ঝুলতে থাকল। এটা দেখে শিয়াল খুব খুশি। আবার জিভ চুক চুক করল। জিব দিয়ে নিজের মুখ চাটল।

পাঁচ কুকুর এবারও ছুটে আসছে। আবার তারা জাল ধরবে। যে করেই হোক মিকাকে বাঁচাতেই হবে। আহা এ কি হল। সে পড়ে গেল মাটিতে। আর অমনি শিয়াল  তাকে  মুখে তুলে নিল। ছুটে গেল গভীর বনে। 

এবার মিকাকে খাবে শিয়াল। বিড়াল ছানা  ভয় পাচ্ছে। থর থর করে কাঁপছে। তারপরও বলল, শিয়াল মামা। আমি তোমাকে একটা গান শুনাই? 

শিয়াল হাসে। বলে, বাহ কি মিষ্টি তুমি। গানও গাইতে পার দেখছি। গাও তো দেখি, কেমন গাইতে পার।।মিকা গান গাইতে থাকে –

মজা ইলিশ ভাজা 

সিংহ বনের রাজা 

শিয়াল মামা ভালো 

চাঁদ  ঢালছে আলো।

গান শুনতে পেল বনের রাজা। সে ছুটতে শুরু করে।  কোথায় গান হচ্ছে, সেদিকে। রাজা গান শুনতে ভালোবাসে। 

কুকুররা টের পেয়েছে শিয়াল কোথায়।

তারা জাল বিছিয়ে রাখে পথে। যে করেই হোক শিয়ালকে আটকাতে হবে। সিংহ রাজা ছুটছে তো ছুটছেই। ছুটতে ছুটতে সে সেই জালেই আটকা পড়ে যায়। 

কুকুর ছানারা খুব খুশি। কী মজা। কী মজা। সিংহ বলে, আমাকে ছেড়ে দাও। আমি গান শুনতে ছুটে যাচ্ছিলাম। কে যেন মধুর সুরে গান গাইছে। 

একটা কুকুর ছানা এগিয়ে গেল তার কাছে। বলল, সত্যি বলছো? 

সিংহ বলল, সত্যি সত্যি সত্যি। 

আরেকটি ছানা বলল, তাহলে আমাদেরকে তোমার পিঠে চড়িয়ে নিতে হবে। সিংহ বলল, তাড়াতাড়ি ওঠ। গান শেষ হয়ে যেতে পারে। চার কুকুরছানা উঠল রাজার পিঠে। মা কুকুর বলল, আমি তোমার পিঠে উঠব না। তোমার অনেক কষ্ট হবে। আমি অনেক ভারী। 

রাজা ছুটছে। যেদিক থেকে গান ভেসে আসছে। এদিকে গান শুনে শিয়াল ঘুমিয়ে পড়েছে। ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে স্বপ্ন দেখছে। তার শিয়াল বউ অনেক ইলিশ মাছ ভাজছে। 

আর সে গরম গরম মজা করে খাচ্ছে। 

কুকুর ছানারা শিয়ালকে জাল দিয়ে পেঁচিয়ে ফেলল। 

তারপর টেনে নিয়ে এল বনের বাইরে। এবার মিকা-ও সিংহ রাজার পিঠে উঠেছে। একদম সামনে। 

দূরে দাঁড়িয়ে আছে একটি ছেলে। ছয় সাত বছর বয়স হবে। তার চোখ দিয়ে পানি পড়ছে। মিকাকে  দেখে আনন্দে সে কেঁদে ফেলেছে। 

মিকা লাফিয়ে পড়ল সিংহের পিঠ থেকে। দৌড়ে ছুটে গেল ছেলেটির দিকে। ছেলেটি দু হাত বাড়িয়ে দিল। মিকা লাফিয়ে উঠল তার কোলে। ছেলেটি মিকাকে জড়িয়ে ধরে চুমু খায়। অনেক আদর করে।

সিংহ রাজা আর পাঁচ কুকুর অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে সেদিকে। মিকা বলল, মিয়াঁউ। ছেলেটাকে দেখিয়ে বলল, আমরা এক বাসায় থাকি। 

একটি সাদা-কালো কুকুর ছানা বলল, বুঝেছি। 

আরেকটি ছানা বলল,তুমি রংধনুতে উঠেছিলে কেমন করে, বলতো?

মিকা হাসে। বলে, চল,পাহাড়টার কাছে বসি। তোমাদেরকে রংধনুতে ওঠার গল্প শোনাই।

দন্ত্যস রওশন: শিশুসাহিত্যিক