নোমান বিবাগী

জল দিয়ে ধোয়া যায় না জলের গন্ধ

অরণ্যের ভিতর দিয়ে নদী 

নদীর মধ্যে জলের জীবন 

জলের ভিতর মাছের জন্ম 

মাছের ফুলকায় মানুষের ফুসফুস 

তবু কেন মানুষ নষ্ট করে নদী 

গিলে খায় মাতৃ-জরায়ু? 

সাবান মাখে সভ্য মানুষেরা 

মানুষ জানে না 

জল দিয়ে ধোয়া যায় না 

জলের গন্ধ!


বেতফুলের রতিজ ঘ্রাণ

আদি কালে মানুষ গাছের পাতা পড়েছে 

তারপর 

গাছের বাকল 

পশুর চামড়া 

সুতোয় বোনা কাপড় 

তবু অরণ্যে গেলে এখনো মানুষ 

উলঙ্গ হয়!

তার ভিতর জেগে ওঠে আদি বাসনা 

নাকি এসে লাগে বেতফুলের রতিজ ঘ্রাণ…


তোমার চোখ তারাভরা আকাশ

আকাশের দিকে তাকালেই 

তারা খসে যায় 

সেই ভয়ে আমি 

তোমার চোখের দিকে তাকাতে পারি না 

তোমার চোখ তারাভরা আকাশ 

আমি শুধু নক্ষত্রময় আকাশ গঙ্গায় 

সাঁতরাই সাঁতরাই আর সাঁতরাই…


কবিতার ফুসফুস

কবিতার ফুসফুস খেয়ে গেছে কালের যক্ষ্মা 

ইতস্তত পড়ে আছে শব্দের কফ

রক্ত আর কফের চিত্রকল্প 

অনবরত কাশির অনুপ্রাস। 

স্বরবৃত্তে ওঠানামা করে পাঁজরের হাড় 

কবিতার ফুসফুস খেয়ে গেছে কালের গ্রাস!


শিকারি

আমি হারিয়ে গেছি চিরহরিৎ বলে 

বনের প্রাচীন পথ আমাকে ভুলপথ দেখায় 

আমার চিৎকার ফিরে আসে প্রতিধ্বনি হয়ে 

একটা শিকারি জাগুয়ার 

আমাকে ছায়ার মতো অনুসরণ করে 

বনের ঝোপঝাড় আর শিকারির শরীরি নকশা 

আমাকে বিভ্রান্ত করে

আমি দেখে ফেলি হঠাৎ 

শিকার আর শিকারির আদিম চিত্রকল্প 

আর তখনই এক লাফে আমার ঘাড় কামড়ে ধরে 

আমারই নিজস্ব চোয়াল!