ধর্মনিষ্ঠতা ও অন্যান্য কবিতা

কাঁদিতে নাহি জানি অন্তর ভরিয়া

ঈর্ষা জাগে পরের তত্ত্ব দেখিয়া,

স্বার্থ চরিতার্থে আপনার আপন ভুলি

কন্ঠিত চক্রে বেদীর অর্ঘ্য চুরি।

নিখিলের সুখ তোমার মানব ধূলি

জীবন বাজিতে হারিবে আবাল মূর্খগুলি,

পরাজয়ের আকাশে উড়ে বীরের ‍মুক্ত ঘুড়ি

কাপুরুষের হাতে মানায় রঙ বেরঙের চুড়ি।

নিজ নিজ আপন গোত্র চর্চা করি

মনের ভিতর কভু ক্ষোভ  নাহি গড়ি,

সকলেরে মনে প্রাণে বাসিয়া ভালো

কুকর্ম বিদায়ে পরকাল হইবে না কালো।

স্বর্গালোকে দূরীভূত ধরার মন্দ আঁধারে

পাপী তুমি রিক্ত হস্তে বিতাড়িত চিরতরে,

দেহ চিত্তে লইবে মননের  একাগ্রতা

সময়ের বয়ঃসন্ধে বাড়িয়া ওঠে ধর্মনিষ্ঠতা।

কবর খুঁড়ে ইতিহাস গড়তে যেও না

যে রচনায় সূচনা তোমরা জানো না।

গাছ কেটে কুড়ালের সুখ জানতে যেও না

কে কষ্ট তোমরা বোঝ না।

বৈঠ্যার প্রহারে জলের ব্যথা বুঝতে যেও না

যে প্রেম তোমরা বুঝতে জানো না।

ভালো থাকতে অপরকে আঘাত দিতে যেও না

যে আঘাত তোমরা মাপতে জানো না।

জন্মলগ্ন হতে কেউ কথা দিতে যেও না

যে কেউ কথা রাখতে জানে না।

এই তুমি কি আমায় ডেকেছো?

সত্যিই কি তুমি ডাকছো আমায়।

তোমার মুক্তার মত ঝরে পরা হাসি

স্লোগান দিয়ে বিদ্রোহ করে চলছে

আমার হৃদয়ের বিশাল রাজপথ জুড়ে

তোমার মুখের মিষ্টি মিষ্টি কথাগুলো

সুরের ঝংকার তুলছে প্রতিনিয়ত

মনে হচ্ছে তুমি এখানেই- আশে পাশে

বলে যাচ্ছো কথা মনেরই ভাষায়

হ্যাঁ তুমি; তুমিই তো ডাকছো আমায়।

কিন্তু তুমি-আমি অনেক অনেক দূরে

জাগতিক কারণে; তবু একত্রিত মোদের মন প্রাণ

তোমার মনের ভাষা, চোখের কথা তাই

কেনো যেন সহজেই বুঝে উঠতে পারি

তুমিই যে ডাকছো আমায় ব্যাকুল হয়ে!

স্বদেশের মাতৃত্বে লুকাবে যখন নিজেকে

তখন বহু দূরের দেশের প্রবাসবাসী আমি

জীবন যুদ্ধের রণক্ষেত্রে অসহায় দুজন অনেকখানি

সবকিছু জেনেও শুধু ডেকো আমায়

মুহূর্তেই আসবো  চলে তোমারই হৃদয় উঠানে।

আগলে ধরে রেখো জড়িয়ে

দিও না কখনো চলে যেতে আমায়

তোমারই ভালোবাসার আঙিনা ছেড়ে।