আমি বিজয় দেখেছি ও অন্যান্য কবিতা
আমি বিজয় দেখেছি
আমি বিজয় দেখেছি
দেখেছি মুক্তিপাগল সেনা,
স্বাধীন একটি দেশ দেখেছি
লাখো শহীদের রক্ত দিয়ে কেনা।
কত মায়ের কোল খালি হলো
কত নারী হারালো তার সম্ভ্রম,
কত নারী হারালো তার স্বামী
জানে শুধু অন্তর্যামী।
সু-উচ্চ স্মৃতিসৌধ গড়ে উঠেছে
লাখো শহীদের নামে;
গড়ে উঠেনি কোনো সৌধ
সম্ভ্রমহারা নারীদের কোন নামে।
লাখো শহীদের গল্প-গাথা
লেখা আছে ইতিহাসে;
কত নারী হারালো সম্ভ্রম তার
লেখা নাই তার পাশে।
আজও সম্ভ্রমহারা সেই নারী
নিভৃতে বসে কাঁদে অন্ধকার ঘরে;
আজি বিজয়ের দিন কাটে তার
দুঃসহ যন্ত্রণায় স্মরণ করে।
কবিতা
কবিতা,
তুমি শুধুই বর্ণ দিয়ে গাঁথা মালা
নিশ্চল, নিশ্চুপ, মূক হয়ে আছ বইয়ের পাতায়।
তুমি কি মুখর হয়ে উঠতে পারো না?
পারো না কি বজ্র
নিনাদে প্রতিবাদ করতে?
মানুষ কেন মানুষকে ঘৃণা করে?
কেন মানুষে মানুষে এত ভেদাভেদ?
কেনই বা এত খুনাখুনি, হানাহানি?
কবিতা,
একবার শুধু বইয়ের পাতা ছেড়ে বেরিয়ে এস
হ্যামিলনের বংশীবাদক-এর মতো
মোহাবিষ্ট সুর তুলো
জাগিয়ে দাও নিস্তব্ধ পৃথিবীকে।
তাড়িয়ে নিয়ে যাও তাদের
দুর্গম কোনো গহিন বিবরে,
অথবা ডুবিয়ে দাও গভীর নদীতে
স্তব্ধ করে দাও সমগ্র পৃথিবীকে।
কবিতা,
শুধু একবার জ্বলে ওঠ
জীবন্ত আগ্নেয়গিরির ফুটন্ত লাভা হয়ে।
ছড়িয়ে পড় চারদিকে, সমগ্র বিশ্বে
জ্বালিয়ে পুড়িয়ে ছারখার করো
ওই মানুষগুলোকে,
যারা নরকের কীট।
আমি নিরোর বাঁশি বাজাব, আর দেখব
তোমার রুদ্ররোষের কড়াল ধ্বংসলীলা।
পৃথিবী পাপমুক্ত হবে, শান্ত হবে ধরিত্রী
তারপর না-হয় ফিরে যাবে
বইয়ের পাতায়।
বাবার আকুতি
এক বুক ব্যথা লয়ে
চলছে জীবন ক্ষয়ে ক্ষয়ে
বহিতে পারিনা আর
এ ব্যথার গুরুভার
জগদ্দল পাথরের মত
চেপে আছে অন্তরে
সান্ত¦নার বাণী পাঠিও
যদি কভু মনে পড়ে
প্রতীক্ষায় থাকবো আমি
তৃষিত অন্তরে
এ আকুতি এক তৃষ্ণার্ত বাবার
কোমলমতি এক সন্তানের কাছে
বুভুক্ষু হৃদয়ে মিনতি
একটু ভালোবাস ভিক্ষে যাচে।
অন্বেষণ
হৃদয় মাঝে আছ তুমি
লালন করি অন্তরে
দেখতে তোমায় পাইনা আমি
খুঁজে ফিরি পথে প্রান্তরে।
জান্নাত আমি চাইনা প্রভু
তোমার করুনা ভিক্ষা যাচি
অন্ধের মত শাস্ত্র ঘাটি
দিবা রাত্রি জাগি।
কি দিয়ে পূজিবো তোমায়
কি আছে আমার
প্রেম ফুলে পূজা নাকি
হয় গো তোমার।
প্রেমের ফুল ফুটিয়ে দাও
আমার এই অন্তরে
তোমার ছায়ায় পেলে ঠাঁই
তোমায় দেখবো নয়ন ভরে।
তোমায় যদি পাই গো প্রভু
সব পাওয়া হয়
তারই তরে চেয়ে আছে
আমার সমস্ত হৃদয়।