একটি মোবাইল ফোন
স্কুল থেকে ফিরে শ্রাবন্তী সোজা ওর ঘরে ঢুকে টেবিলের উপর বইপত্রগুলো রেখে সটান বিছানায় শুয়ে পড়ে। শরীরটা বেশ ক্লান্ত অনুভব করছে। সামনে এস.এস.সি. পরিক্ষা শুধু পড়া আর পড়া। হেডমিসট্রেস বলেছেন এবার আমাকে গোল্ডেন জি.পি.এ. ৫ পেতেই হবে। স্যারদের তো কথাই নেই, তারা মনে করেন জি.পি.এ. ৫ আমি পেয়েই গেছি। কিন্তু আমি তো জানি এটা আমার জন্য কত কঠিন কাজ। আমার সহপাঠী যারা আছে তাদের মধ্যে শ্রেয়সী, আলিসা, পরমা আর বর্ষা ওরা অনেক ভাল ছাত্রী। ক্লাশে এদের রোল নাম্বার আমর পর পরই। সহকারী প্রধান শিক্ষক সৌম্য বাবু, পুরোনাম সোমনাথ চক্রবর্তী। আমরা ক্লাশে সবাই সোম স্যার বলে থাকি। আমাকে একদিন ডেকে বললেন, শ্রাবন্তী অংকগুলো বাড়িতে একটু প্র্যাক্টিস করো। অন্তত যেগুলো আমি ক্লাশে করাই সেই অংকগুলো। আসলে স্যার জানেন না ক্লাশে তার শেখানো সব অংকগুলোই আমি খাতায় নোট করি। তারপর বাড়িতে এসে রাত এগারটা পর্যন্ত প্র্যাক্টিস করি। অংকের জন্য সময়টা বেশিই ব্যয় করি।
বিছানায় শুয়ে শুয়ে শ্রাবন্তী ভাবে আমি কি পারবো স্যারদের প্রত্যাশা পূরণ করতে? এমন সময় ওর মায়ের ডাক শুনতে পায়। মা ওকে স্নান করার জন্য ডাকছে। মা, শ্রাবন্তীকে দেখে বলে, তাড়াতাড়ি স্নান করে নে আজ রথের মেলায় যাবো। সত্যিই? হ্যাঁ সত্যিই। শ্রাবন্তী গুনগুন করে গান গাইতে গাইতে স্নান ঘরে ঢুকে। ঠিক এমন সময় শ্রাবন্তীর মোবাইল ফোনটা বেজে উঠে।
শ্রাবন্তী স্নান সেরে ঘরে ঢুকে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে মাথার চুল আচড়াতে থাকে। হঠাৎ টেবিলের উপর রাখা মোবাইলটা আবার বেজে উঠে। শ্রাবন্তী মোবাইলটা হাতে নিয়ে দেখে সেই আগের নাম্বার। প্রায় দু’মাস ধরে এই নাম্বারটা শ্রাবন্তীকে বিরক্ত করছে। শ্রাবন্তী একবারও ধরেনি। আজও ধরলনা মোবাইলটা রেখে দিল। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে সুন্দর করে মাথা আচড়ায় লম্বা বেণী করে। শ্রাবন্তীর মাথা ভরা লম্বা চুলই ওর সহপাঠিদের কাছ থেকে ওকে আলাদা করে রেখেছে। ফর্সা রং তার উপর ডোভ ব্যবহার করে। কপালে ছোট্ট করে একটা লাল টিপ দেয়। এই সামান্য প্রসাধনীতেও শ্রাবন্তীকে আলাদা করে চেনা যায়। এই চুলের জন্যই শ্রাবন্তীর বন্ধুরা ওকে হিংসে করে।
বিকেলে শ্রাবন্তী ওর মায়ের সাথে রথের মেলা দেখতে গেল। হালকা গোলাপী রংয়ের সালোয়ার কামিজ পরে। লম্বা দু’টো বেণী করে বেণী দু’টো দু’দিকের কাধের উপর দিয়ে সামনে নামিয়ে দেয়। দেখতে খুবই চমৎকার লাগে। মায়ের সাথে ঘুরে ঘুরে দেখতে থাকে রথের মেলা। সুন্দর করে সাজানো রথটাকে খুব কাছে দাঁড়িয়ে দেখতে থাকে শ্রাবন্তী। কিছুক্ষণ দেখার পর একটা রকমারী দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে কিছু কেনাকাটা করে। মোবাইল রাখার জন্য ছোট্ট একটা ব্যাগও কিনলো। ব্যাগটা চিকন ফিতা দিয়ে লাগানো কাঁধে ঝোলানো যায়। ব্যাগটা কিনে মোবাইলটা ব্যাগে ভরে কাঁধে ঝুলিয়ে রাখে। ঠিক এমন সময় মোবাইল বেজে উঠে। ফোনটা ব্যাগ থেকে বের করে হ্যালো বলতেই অন্য প্রান্ত থেকে বলে উঠে, প্লিজ শ্রাবন্তী ফোনটা বন্ধ করোনা আমার কথা শুন। আমি অনেকদিন ধরে তোমাকে ফোন করছি তুমি ফোন ধর না। তবুও আমি নিরাশ হইনি। আমি জানি একদিন তোমার সাথে কথা বলতে পারব। আমি জানি তুমি আমার কথা শুনবে। তুমি যে দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে আছো ঐ দোকানের ভেতর সেলফের উপর একটা প্রেজেনটেশন তোমার জন্য কিনে রেখেছি। কাঁচের গ্লাসের ভেতর একটা লাল গোলাপ। দোকানদারকে শুধু বল আমি ওটা দেখতে চাই তাহলেই দোকানদার তোমাকে একটা প্যাকেট করে দিয়ে দেবে। এই পর্যন্ত শুনার পর শ্রাবন্তী সঙ্গে সঙ্গে ফোন কেটে দেয়। ওর মা জিজ্ঞেস করে কে ফোন করেছে। শ্রাবন্তী বলল, চিনি না কে করেছে। শ্রাবন্তীর মা বলল তাহলে কার সাথে কথা বললি? রাগী স্বরে শ্রাবন্তী বলল আমি কোথায় কথা বললাম? আমি শুধু শুনলাম। কিছুই বুঝতে পারলাম না তাই কেটে দিলাম। শ্রাবন্তীর কথা শুনে শ্রাবন্তীর মা বলল হয়তো কেউ রং নাম্বারে ফোন করেছে।
রাতে বিছানায় শুয়ে শুয়ে ভাবতে থাকে কে এই বখাটে ছেলে যে আমাকে লাল গোলাপের প্রেজেনটেশন কিনে আমার জন্য দোকানের সেলফের উপর রেখেছে। কি বলতে চায় শ্রাবন্তী সেটা আন্দাজ করতে পেরেছে। এই রকম মানুষ খুবই ভয়ংকর হয়।
শ্রাবন্তীর মনে পড়ে ওর মামাতো বোন বিশাখা দিদির কথা। এস.এস.সি. পাশ করে ঢাকায় হলিক্রশে ভর্তি হয়েছে হঠাৎ করে একটা ছেলে ওর পেছনে লাগে। প্রতিদিনই কলেজের ছুটির সময় গেইটের বাইরে দাঁড়িয়ে থাকতো। কলেজ থেকে বের হলে রাস্তায় ওর পাশাপাশি হাটতো। কথা বলতে চাইতো। এরপর ফেনে বিরক্ত করা শুরু করে। বিশাখাদিও খুব শক্ত মনের মানুষ কিছুতেই পাত্তা দেয়নি। তাতেও বিশাখাদির কোন লাভ হয়নি। বরং পড়াশুনার প্রচুর ক্ষতি হয়েছে। ইন্টারে ভাল করতে পারেনি। অথচ খুব ব্রিলিয়েন্ট ছাত্রী ছিল।
শ্রাবন্তী ভাবে আমি কি সেই পথে হাটছি? হঠাৎ বিছানা থেকে উঠে বাতি জ্বালিয়ে টেবিলের উপর রাখা পানির মগ থেকে গ্লাসে পানি ঢেলে ডগ্ ডগ্ করে এক গ্লাস পানি খায়। পাশের বিছানায় শ্রাবন্তীর মা অঘোরে ঘুমাচ্ছে। শ্রাবন্তীর চোখে ঘুম নেই। সামনে এস.এস.সি. পরিক্ষা ঠিকমতা পড়াশুনা করতে না পারলে শিক্ষকদের প্রত্যাশা পূরণ করা যাবে না। এখন আমি কি করি। ঘরের লাইট বন্ধ করে আবার এসে বিছানায় বসে শ্রাবন্তী। মনে মনে ভাবে বিষয়টা কি প্রধান শিক্ষিকার সাথে আলাপ করবো? না না অসম্ভব, আমার কথা শুনে প্রধান শিক্ষিকা যদি ঐ ছেলের সাথে কথা বলে কিংবা ওকে শাসন করে তাহলে তো ঐ ছেলে আমার উপর আরো প্রভাব খাটাতে চাইবে। আমার কাছে আসার সুযোগ খুঁজবে। সহপাঠিদের কাছে তো বলাই যাবে না তাহলে হাটে হাড়ি ভাঙ্গা হবে। শ্রাবন্তী বিছানায় শুয়ে চিন্তা করতে লাগলো। কিভাবে এ থেকে নিস্কৃতি পাওয়া যায়। হঠাৎ মনে পড়ল বিষয়টা মাকে বললে কেমন হয়। পর মুহুর্তেই ভাবে, না মাকে বলা যাবে না তাহলে মা অনেক চিন্তা করবে। তাহলে কি করি? কি করি কি করি করতে করতে শ্রাবন্তী ঘুমিয়ে পড়ে।
পরদিন ক্লাশে বার বারই শ্রাবন্তী অন্যমনষ্ক হয়ে পড়ে। কিছুতেই পড়ায় মন বসাতে পারে না। বার বারই একই দুঃশ্চিন্তা ওকে পেয়ে বসে। বিষয়টা ক্লাশ টিচার সৌম্য বাবু বুঝতে পারেন। ক্লাশ শেষে তিনি প্রধান শিক্ষিকার সাথে বিষয়টা আলাপ করেন।
পরদিন ক্লাশে একটা নোটিশ আসে প্রধান শিক্ষিকার অফিস থেকে। শ্রাবন্তীদের ক্লাশে তখন ইতিহাস পড়াচ্ছিলেন সন্তোষ বাবু। নোটিশটা পড়লেন। পরমা, শ্রাবন্তী, শ্রেয়সী, আলিসা ও বর্ষা ক্লাশ শেষে তোমরা হেডমিসট্রেসের অফিসে যাবে। হেডমিসট্রেসের অফিসে যাবার কথা শুনে সবাই ভয় পেয়ে গেল। সবাই একে অপরকে জিজ্ঞেস করে কি জন্য ডেকেছে জানিস? কেউই বলতে পারল না। কি জন্য ডেকেছে। আলিসা শ্রাবন্তীকে কিছু বলতে যাচ্ছিল ঠিক এমন সময় ঘন্টা বেজে উঠল। টিফিনের ঘন্টা পড়ার দশ মিনিটের মধ্যেই ওরা ৫ জন হেডমিসট্রেসের অফিসে ঢুকতেই দেখতে পায় সৌম স্যার বসে আছেন। হেডমিসট্রেস ওদের বসতে বললেন। ভয়ে ভয়ে ওরা চেয়ারে বসল। ওদের বসার ধরণ দেখে সৌম্য বাবু হেসে ফেললেন। সৌম্য বাবুর হাসি দেখে ওরা ফ্যালফ্যাল করে সৌম্য স্যারের মুখের দিকে তাকিয়ে থাকে। হাসি থামিয়ে সৌম্য বাবু বললেন তোরা এত ভয় পেয়ে গেলি কেন? তোরা তো কোন অপরাধ করিসনি। তোদের বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ নেই। প্রধান শিক্ষিকা বললেন, তোমাদের এখানে ডাকার পেছনে প্রধান কারণ হলো সামনে তোমাদের এস.এস.সি. পরিক্ষা। তাই তোমরা কে কেমন প্রস্তুতি নিচ্ছ তা জানার জন্য এবং তোমাদের কারও কোন সমস্যা আছে কিনা তা জানার জন্য। তোমাদের ৫ জনের উপর নির্ভর করছে স্কুলের সুনাম এবং ভবিষ্যৎ। আমরা তোমাদের কাছে অনেক কিছু আশা করছি। তোমরা ৫ জন তা দিতে পারবে। এটা আমাদের বিশ্বাস। এরপর শ্রাবন্তীর দিকে তাকিয়ে বলেন, শ্রাবন্তী পারবে না তুমি গোল্ডেন জি.পি.এ. ৫ পেতে? সৌম্য বাবু বলেন জি.পি.এ. গোল্ড পাওয়া শ্রাবন্তীর কাছে কোন কঠিন কাজ নয়। চেষ্টা করলে আলিসাও পেতে পারে। প্রধান শিক্ষিকা বললেন আলিসা, পরমা, বর্ষা ও শ্রেয়সী তোমার জি.পি.এ. ৫ পাবেই। এতে কোন সন্দেহ নেই। শিক্ষকদের কথা শুনে সবাই স্বস্থি ফিরে পেল। এতক্ষণ সবাই একটা টেনশনে ছিল কি জানি কোন ভুলে কি বকুনী খেতে হয়? সবাই রিলাক্স হলো।
বর্ষা বলল, স্যার ইংরেজী দ্বিতীয়পত্রে আমার একটু সমস্যা আছে। হেডমিসট্রেস বললেন, শুধু ইংরেজী দ্বিতীয়পত্র নয়, যার যেসব সাবজেক্টে সমস্যা আছে নির্ভয়ে সেই সাবজেক্টের টিচারকে বলবে। তারপর সৌম্য বাবুকে বললেন, স্যার আপনি বিষয়টি দেখবেন। যার যে সাবজেক্টে জানার আছে বা বোঝার আছে আপনি সেই টিচারকে বলে দেবেন তাকে সাহায্য করতে। আর শোন খুব অল্প সময় তোমাদের হাতে আছে কোন মতেই সময় নষ্ট করো না। বন্ধুবান্ধব, বয়ফ্রেন্ড, গালফ্রেন্ড, মোবাইল ফোন সব বন্ধ রাখবে। মনে রাখবে এটাই জীবনের মোক্ষম সময়। কেউ যদি তোমাদের ডিষ্টার্ব করে রাস্তাঘাটে, বা মোবাইল ফোনের মাধ্যমে তবে ফোন বন্ধ রাখবে। মোবাইলের সিম কার্ড খুলে রাখবে। প্রয়োজনে মোবাইল ফোন নদীতে ফেলে দেবে। একটা মোবাইল ফোনের চেয়ে তোমাদের জীবনের ক্যারিয়ার অনেক মূল্যবান। শিক্ষার স্বর্ণ শিখরে পৌঁছার প্রথম ধাপ তোমরা পার করতে যাচ্ছ। ভয় পেয়ো না আমারা তোমাদের সাথে আছি, ঠিক আছে? সকলেই নির্ভয়ে সম্মতি প্রকাশ করে। হেডমিসট্রেস বললেন এবার তোমরা এসো।
সবাই হাসি খুশী মন নিয়ে হেডমিসট্রেসের অফিস থেকে বেরিয়ে আসে। শ্রাবন্তী, বর্ষা, শ্রেয়সী, পরমা, আলিসা সবার মনে সাহস এবং উদ্দীপনা দেখা গেল। শ্রাবন্তী যেন এরকম কিছুর অপেক্ষায় ছিল।
ঠিক সময়মত শিক্ষকদের কাছ থেকে উৎসাহ আর সহযোগিতা পেয়ে ছাত্রীরা পড়াশুনায় মনযোগ দিল। শ্রাবন্তী, পরমা, আলিসা, বর্ষ ও শ্রেয়সী সবাই বঝুতে পেরেছে ভাল রেজাল্ট করতে হলে চাই শুধু পড়া পড়া আর পড়া। পড়ার কোন বিকল্প নেই।
পরীক্ষার সময় কাছে আসতেই আবার শ্রাবন্তীর মোবাইল ফোন বাজতে শুরু করে। কখনও দুপুরে কখনও সন্ধ্যায়। যতবারই বাজে শ্রাবন্তী মোবাইল নম্বরটা দেখে মোবাইল বন্ধ করে দেয়। শ্রাবন্তী ভাবে মোবাইলে কথা বললেই নতুন করে সুযোগ পেয়ে যাবে। আমি সেই সুযোগ দেব না। এই মোবাইল ফোনের কারণে আমি আমার ক্যারিয়ার নষ্ট হতে দেব না।
প্রধান শিক্ষকার কথাগুলো মনে পড়ে- মনে রাখবে এটাই তোমাদের জীবনের মোক্ষম সময়। শিক্ষার স্বর্ণ শিখরে উঠার প্রথম সিড়ি তোমরা অতিক্রম করছ। প্রয়োজনে মোবাইল নদীতে নিক্ষেপ করবে। একটি মোবাইল ফোনের চেয়ে তোমাদের জীবনের ক্যারিয়ার অনেক মূল্যবান।
শ্রাবন্তীর ইচ্ছা করছিল নাম্বারটা নোট করে প্রধান শিক্ষিকার হাতে দিয়ে বলি এই নাম্বারে গত এক মাস যাবৎ আমাকে ডিষ্টার্ব করছে। কিন্তু শ্রাবন্তী তা করল না। শ্রাবন্তী মনে করে মোবাইল নাম্বারটা দিয়ে অভিযোগ করলে প্রধান শিক্ষিকা এর বিরুদ্ধে যদি আইনের আশ্রয় নেয় তাহলে এই বখাটে ছেলের কঠিন শাস্তি হতে পারে। সেই শাস্তি ভোগের পর তার মধ্যে একটা প্রতিহিংসা জেগে উঠলে সেটার পরিণাম আরো ভয়াবহ হতে পারে।
এস.এস.সি. পরিক্ষায় প্রথম দিন ২৮ জন পরীক্ষার্থীসহ প্রধান শিক্ষিকা, সহকারী প্রধান শিক্ষক ও ধর্ম শিক্ষক হুজুর সকলেই বাজারে বোট ঘাটে যথাসময়ে উপস্থিত হয়। বোটে উঠার আগে সবাইকে এক সঙ্গে জড়ো করে প্রধান শিক্ষিকা বললেন, সবাই যার যার প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ঠিকমত এনেছ তো? সকলেই এক সঙ্গে বলে উঠল হ্যাঁ। প্রধান শিক্ষিকা আরও বললেন পরীক্ষা শেষ হলে কেউ এদিক সেদিক যাবে না সোজা বোটে এসে বসবে আমি তোমাদের সাথে কথা বলব। এবার সবাই বোটে উঠ। ঠিক এমন সময় শ্রাবন্তীর মোবাইল ফোন বেজে উঠে। শ্রাবন্তী মোবাইলটা হাতে নিয়ে দেখল সেই নাম্বার এক মুহুর্ত চিন্তা না করে হাতের মোবাইল ফোনটা নদীতে নিক্ষেপ করে। মনে মনে বলে তোমার চেয়ে আমার জীবনের লক্ষ্য অনেক বড় …………………….।
লেখকের প্রকাশিত গ্রন্থ: স্বর্গের রজনী গন্ধা, বেলাশেষে।