আলী আজগার রানা

অস্তিত্ব

কতো দিবস , কতো রাত  পেরিয়ে গেছে,

কতো মাস , কতো বছর  হারিয়ে গেছে ।

কতো গ্ৰীষ্মের দাবদাহ ,কতো বর্ষার জল,

কতো বসন্তে ঝরেছে ফের ফুটেছে ।

কতো শরতের সাদা মেঘ গেছে হারিয়ে ,

ফসলের সুঘ্রাণ জোটেনি কতো হেমন্তের,

কতো শীত , কতো শৈত্য-প্রবাহ ,কতো আচ্ছন্ন কুয়াশা ,

অপেক্ষা প্রস্ফুটিত সূর্যের,

প্রেমিকার হাতের লাল গোলাপের মতো ।

অপেক্ষার সময়টা নেহাত কম নয় , একদমই কম নয় ।

হয়তো ব্যর্থ, হয়তোবা সফল কৈশোরের ঐ ঘুড়ির মতো,

সুদূর আকাশে উড়ে, ফের নেমে আসে সুতোর টানে ।

কতো হাজার,সহস্র, লক্ষ্য ,কোটি শুক্রাণুকে পিছু ফেলে,

কতো যুদ্ধ,কতো প্রতিযোগিতা মাঝে পৌঁছে দ্বার প্রান্তে,

কতো বিবর্তন , কতো পরিবর্তন, হ্যাঁ অতঃপর মানুষ আমি।

চলার পথে অনেক চেনা, জানা-শোনা ,তবুও কিছু  নয়,

ধূসর পিচঢালা রাস্তার মরীচিকার মতো অধরা ।

কতো উন্মাদনা, কতো আকাঙ্ক্ষা,কতো ইচ্ছার বিসর্জন 

অন্তরের নীল নদে ।

স্রোতের বিপরীতে ইচ্ছা ,ইচ্ছার বিপরীতে ভিন্ন ইচ্ছা।

নাটাই বিহীন একটি ঘুড়ির অনন্তের পথে যাত্রা,

কাল হতে মহাকালের পথে, নেই কোন পাথর ফলক 

অতর্কিত শেষ পথ, কৃষ্ণগহ্বরের অস্তিত্ব শুরু ।

কালো আর অন্ধকার, অন্ধকার আর অন্ধকার 

ক্রমশই ঘনীভূত হয়  দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর ।

আলোকবর্ষ দূরে ঝুলে আছে স্বপ্ন , খোঁজ মিলছে না

নাটাই বিহীন ঘু্ঁড়িটার ।

 হারিয়ে গেছে পাথরফলক বিহীন কুচ কুচে কালোআঁধারে।

হয়তোবা জানান দিয়ে গেছে কৃষ্ণগহ্বরের অস্তিত্বের।


বরফগলা স্রোত
ভয়ের বরফ গলতে শুরু করেছে, 

উত্তর থেকে দক্ষিণ ,পূর্ব হতে পশ্চিম পর্যন্ত,

ক্রমশই দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হচ্ছে 

দৈনিক সংগ্রামী জনতার সংখ্যা

হাজার হতে লক্ষ ও কোটিতে পৌঁছে যেতে

সময় নেবে না আর বেশি দিন ।

ধূসর আর বাদামী বালির বাঁধ 

আর কতো দিবস রুখতে পারে স্রোত।

এ স্রোত সরিয়ে দিতে সক্ষম সুউচ্চ পাহাড়,

এ স্রোত ভেঙ্গে দিতে পারে পাথরের দেয়াল

এ স্রোত মানবে না কাঁটা তারের বেড়া

এ স্রোত শুধু সম্মুখে এগিয়ে চলে

এ স্রোত পিছু হটতে শেখে নি,

এ স্রোত যে জনতার স্রোত ।

জনতার এই ধ্বনি প্রতিধ্বনি হয়ে ছড়িয়ে পড়তে পারে

গ্ৰাম হতে শহরে,অলিতে গলিতে, 

মেঠোপথ আর কালো চকচকে পিচঢালা রাস্তায় ।

এ স্রোত হতে পারে নতুন ইতিহাসের বাহক 

এ স্রোতে আসতে পারে একবিংশ শতাব্দীর নূর হোসেন

এ স্রোত হতে পারে রফিক, শফিক আর জব্বারের

এ স্রোতে উড়তে পারে মতিউর রহমানের উড়োজাহাজ,

এ স্রোতে উঁকি দিতে পারে জয়নুল আবেদীনের  ক্যানভাস 

এ স্রোতে গর্জে উঠতে পারে সুকান্তের কর্কশ ধ্বনি

রফিক আজাদ ক্ষুধা জ্বালায় বলে উঠতেই পারেন

ভাত দে হারামজাদা না হয় মানচিত্র খাবো। 

হয়তো তালসোনাপুরের তালেব মাস্টারের অনুরোধে

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় বইটি লিখবেন নতুন করে

কোথাও কোন রোমান্স নেই।

হয়তো নজরুল ইসলাম চিৎকার করে বলতে পারেন

মোরা আকাশের মতো বাঁধাহীন ,

মোরা মরু সঞ্চার বেদুইন ।

ছড়িয়ে পড়বে, ছড়িয়ে যাচ্ছে, ছড়িয়ে গেছে এ স্রোত

এ স্রোত আমজনতার, এ স্রোত ক্ষুধার্তের স্রোত

এ স্রোত বিবেকের , এ স্রোত জনতার ।